চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন (প্রি-ফাইন্যান্সিং) তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবেন।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। নতুন স্কিমটি তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এটি আবর্তনযোগ্য তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন ট্যানারি স্থাপন, বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন এবং চামড়া শিল্পের সহায়ক পণ্য উৎপাদনে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
আরও পড়ুন আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে নাএই স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ দেবে ৪ শতাংশ সুদে।
Advertisement
সার্কুলারে বলা হয়েছে, নতুন ট্যানারি, কোল্ড স্টোরেজ ও বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। নতুন চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ২০ কোটি এবং আধুনিকায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া চলতি মূলধনের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন মিলবে।
তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা, একই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা বিশেষ তহবিলের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান এবং কাঁচা চামড়া, ক্রাস্ট বা ফিনিশড লেদার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।
আরও পড়ুন বন্দরে চাপ: নন-বন্ডেড এলাকায় খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি চায় চেম্বারনীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঋণ গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ সৌরশক্তি থেকে নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা বিশেষ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
Advertisement
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি প্রাক-অর্থায়ন তহবিল গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, সহজ শর্তে অর্থায়নের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারেনি। নতুন এই তহবিল চালুর ফলে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইএআর/কেএসআর