জাতীয়

শাহজালাল বিমানবন্দরের ট্রলি বিতর্ক: অনুসন্ধানে যা জানালো আনসার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ঘটনায় অনুসন্ধান চালিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

Advertisement

বাহিনীর দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ঘটনার আংশিক অংশমাত্র। পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট না থাকায় এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরের (গণসংযোগ শাখা) সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট মো. শহিদুজ্জামান রাজু এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনুসন্ধানের তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২-এর বহির্গেট দিয়ে কয়েকজন প্রবাসীর স্বজন নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী তাদের প্রবেশে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

Advertisement

এর কিছুক্ষণ পর তাদের স্বজন ক্যানোপি-২ এলাকায় পৌঁছালে তারা বিমানবন্দরের ট্রলি নির্ধারিত এলাকার বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ট্রলি নির্ধারিত এলাকার বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধ থাকায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাদের আবারও বাধা দেন। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন নির্দেশনা আছে বাস্তবায়ন নেই, শাহজালালে যাত্রীর স্বজনের জটলা ঠেকাবে কে?

অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গ করতে না পেরে একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ট্রলি ব্যবহার না করে নিজেদের মালামাল হাতে ও কাঁধে বহন করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি পুরো ঘটনার একটি খণ্ডিত অংশমাত্র। এতে প্রকৃত ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত থাকায় বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি এবং জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

বাহিনীটির ভাষ্য, ঘটনার সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম, শালীনতা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছেন। কোনো উসকানির মুখেও তারা প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ না করে শুধু বিমানবন্দরের প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়ন করেছেন।

Advertisement

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে বিভিন্ন ঘটনার অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।

আনসার জানায়, বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তাদের সদস্যরা নিজস্ব কোনো নিয়ম প্রয়োগ করেন না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশিকা, নীতিমালা ও প্রচলিত আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বই তারা পালন করে থাকেন।

এ ঘটনায় জনসাধারণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আংশিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সঙ্গে গুজবে কান না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত বিধি-বিধান মেনে চলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

কেআর/এমকেআর