গত সপ্তাহান্তে একটি অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসে। অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লদের শেয়ার করা অসংখ্য কথোপকথন এবং আর্টিফ্যাক্ট (চ্যাটের ভেতরে তৈরি করা ইন্টারেক্টিভ অ্যাপ বা ডকুমেন্ট) গুগল সার্চে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল।
Advertisement
রেডিটের একদল ব্যবহারকারী ‘site:claude.ai/share’ লিখে গুগলে সার্চ করে দেখেন, শত শত ব্যক্তিগত চ্যাট মুহূর্তের মধ্যেই চলে এসেছে সবার সামনে। এর মধ্যে ছিল রোগীর স্বাস্থ্য প্রতিবেদন, প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি, এমনকি শিশুদের নাম ও ফোন নম্বরও। বিষয়টি প্রথম নজরে আসে রেডিটে, পরে বিস্তারিত প্রতিবেদন করে 404 মিডিয়া ও টেকক্রাঞ্চ।
ঘটনার মূলে আছে ক্লদের ‘শেয়ার চ্যাট’ ফিচার। এই ফিচার দিয়ে ব্যবহারকারী চাইলেই তার কথোপকথনের একটি পাবলিক লিংক তৈরি করতে পারেন, যা দিয়ে যে কেউ সেই চ্যাট দেখতে পারে। লিংকটি সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে কাউকে পাঠানোর জন্য তৈরি হলেও, তা কোনোভাবে সার্চ ইঞ্জিনের নাগালে পৌঁছে গিয়েছিল।
অ্যানথ্রপিকের দাবি, শেয়ার করা লিংক তখনই সার্চ ইঞ্জিনে দেখা যায় যখন কেউ সেটি এমন কোনো জায়গায় পোস্ট করেন যেখানে সার্চ বট প্রবেশ করতে পারে, যেমন ফোরাম বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। মুখপাত্র অ্যামি রদারহাম টেকক্রাঞ্চকে বলেন, লিংকগুলো অনুমান করে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। ব্যবহারকারী নিজে শেয়ার না করলে কেউ তা আবিষ্কারও করতে পারবেন না।
Advertisement
তবে এই ব্যাখ্যায় প্রযুক্তি সাংবাদিকদের একাংশ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। গুগল ডক্সেও একই ধরনের শেয়ারিং সুবিধা আছে, কিন্তু সাধারণত সেসব লিংক সার্চে আসে না। সার্চ ইঞ্জিন জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, robots.txt আর noindex ট্যাগের মধ্যে গরমিল থাকলেই একটি পেজ ইনডেক্স হয়ে যেতে পারে, ক্রলার পেজের ভেতরে না ঢুকেও শুধু অন্য কোথাও লিংক পেলে সেটিকে তালিকাভুক্ত করে ফেলতে পারে। গুগলের মুখপাত্র নেড অ্যাড্রিয়ান্স অবশ্য বলেন, কোন পেজ ইনডেক্স হবে সেটা সাইট মালিকই ঠিক করেন, নির্দেশনা মেনেই গুগল কাজ করে।
সোমবার বিকেলের মধ্যে সমস্যাটি অনেকটাই সমাধান হয়ে যায়। আগের সেই সার্চ পদ্ধতিতে আর নতুন ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যাদের কাছে আগে থেকে লিংক সংরক্ষিত আছে, তারা এখনো সেসব চ্যাট দেখতে পারবেন। একবার কোনো পেজ ক্যাশে বা তৃতীয় পক্ষের আর্কাইভে জমা হয়ে গেলে, তা পুরোপুরি মুছে ফেলাও সহজ কাজ নয়।
এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত বছর একই ধরনের সমস্যায় গুগল প্রায় ৬০০টি ক্লদ চ্যাট ইনডেক্স করেছিল। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটিতেও একবার প্রায় এক লাখ শেয়ার করা কথোপকথন সার্চযোগ্য হয়ে পড়ে, তারপর ওপেনএআই ফিচারটিই বন্ধ করে দেয়। গুগলের নিজস্ব চ্যাটবট বার্ডও আগে একবার একই সমস্যায় পড়েছিল।
আরও পড়ুন বিদ্যুৎ-পানি ‘খেয়ে’ শেষ করছে এআই, পৃথিবীর কী হবে?বাংলাদেশেও এখন শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার আর অফিসকর্মীদের একটা বড় অংশ কাজের প্রয়োজনে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেন-কোড লেখা থেকে শুরু করে সিভি সংশোধন কিংবা ব্যক্তিগত জটিলতার সমাধান খুঁজতে। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, চ্যাটবটের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্যও সব সময় ব্যক্তিগত থাকে না।
Advertisement
যারা আগে ক্লদে কোনো চ্যাট শেয়ার করেছেন, তারা চাইলে সেটিংস থেকে গিয়ে প্রাইভেসি অপশনে থাকা শেয়ারড চ্যাটস ঢুকে নিজের শেয়ার করা লিংকগুলো যাচাই করে নিতে পারেন, প্রয়োজনে আনশেয়ারও করে দিতে পারেন।
কেএসকে