ক্যাম্পাস

নারী নির্যাতন মামলায় কারাবাস, বরখাস্তের বদলে পুনঃযোগদান ইবি শিক্ষকের

স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় কারাবাসের পরও সাময়িক বরখাস্ত না হয়ে পুনরায় দায়িত্ব পালন করছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সরকার।

Advertisement

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, কারাগারে গেলে সাময়িক বরখাস্তের বিধান থাকলেও তার ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তার চাকরির আইনি অবস্থান ও পুনঃযোগদানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে স্ত্রীর করা যৌতুক ও নির্যাতনের মামলায় ২০২৪ সালের আগস্টে সঞ্জয় কুমারকে জেল হাজতে পাঠিয়েছিলেন আদালত। তবে তিনি জেল হাজতে যাওয়ার পূর্বে অন্য এক শিক্ষককে সাময়িক সময়ের জন্য বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করেন। বিষয়টি মৌখিকভাবে অনুষদের ডিনকে জানানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি নিয়ে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তবে যোগদানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাননি তিনি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৫ (ক) এর বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে গ্রেফতার হলে বা আদালতের মাধ্যমে কারাগারে গেলে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। তবে সঞ্জয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মান্য করা হয়নি। ফলে তার হাজতে থাকাকালীন চাকরির আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. সঞ্জয় কুমার অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করেছেন। তবে পদোন্নতির আগে তার সার্ভিস রেকর্ড, হাজতবাসকালীন চাকরির অবস্থা, পুনঃযোগদানের বৈধতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি-না, তা নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

এর আগে, ২০১৬ সালে বিভাগটির এক শিক্ষার্থীর আত্মীয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে ড. সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার অপর এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। এ মামলার প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষর্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে সঞ্জয়ে বিরুদ্ধে এক ছাত্রী মানসিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানিরও অভিযোগ তোলে। যা সেই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের অভিযোগ, অতীতে সঞ্জয় কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও তৎকালীন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযোগগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি হয়নি।

এ বিষয়ে ড. সঞ্জয় কুমার সরকারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Advertisement

এর আগে, তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। আমি বিভাগে লিখিতভাবে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম এবং তৎকালীন ডিনকেও জানিয়েছিলাম। জুলাই আন্দোলন পরবর্তী পরিস্থিতিতে উপাচার্যের পদ শূন্য ছিল এবং একজন ডিন দায়িত্বে ছিলেন। সে কারণে প্রশাসনকে আলাদাভাবে জানানো হয়নি। আমি মনে করেছিলাম, আদালতই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করবেন। মাত্র চার-পাঁচ দিন জেল-হাজতে ছিলাম এবং পরে মামলা ডিসমিস হওয়ায় প্রশাসনকে আর জানানো হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ড. সঞ্জয় কুমারের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা দাপ্তরিকভাবে আমি অবগত নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন বা অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরুর আগে আগাম কোনো মন্তব্য বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়। তৎকালীন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতেন কি-না বা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কি-না, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো নথি নেই।

ইরফান উল্লাহ/কেএইচকে/জেআইএম