হজে গিয়ে প্রতারণা বা ভোগান্তির অভিযোগ যেন আর না থাকে— এমন প্রত্যাশাই জানাচ্ছেন আগামী বছরের সম্ভাব্য হজযাত্রীরা। তাদের মতে, প্যাকেজের দামে খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও মানসম্মত সেবা, ভালো আবাসন ও নির্ভরযোগ্য এজেন্সিই হওয়া উচিত হজযাত্রার প্রধান বিবেচ্য বিষয়। তবে হজ এজেন্সিগুলোর দাবি, অনেক যাত্রী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই হজে যান, যা পরবর্তীতে নানান ভোগান্তির কারণ হয়।
Advertisement
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জাতীয় হজ ও ওমরাহ মেলায় আগতদের সঙ্গে কথা বলে এ অভিমত জানা যায়। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) আয়োজিত এ মেলায় ১৩৩টি হজ ও ওমরাহ এজেন্সি অংশ নিয়েছে।
মেলায় স্ত্রীকে নিয়ে আসা ব্যবসায়ী জাহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, হজের সময় বিভিন্ন এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ শুনি। আমরা প্রতারণা চাই না, ভালো সেবা চাই। প্যাকেজগুলোর দাম তো প্রায় কাছাকাছি। ২০২৭ সালে হজ করার নিয়ত করেছি। তাই বিভিন্ন স্টল ঘুরে সুযোগ-সুবিধা দেখছি। সবকিছু যাচাই করে ভালো একটি এজেন্সির প্যাকেজ নেবো।
রামপুরা থেকে আসা সম্ভাব্য হজযাত্রী কাজল আহমেদ বলেন, প্যাকেজ বিক্রির সময় সবাই অনেক আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে খাবারের সমস্যা, দূরের হোটেলসহ নানান ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। ভালো ও স্বনামধন্য এজেন্সিগুলো সাধারণত এসব ঝামেলা করে না।
Advertisement
তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে এজেন্সিগুলোর দাবি, হজযাত্রীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই সৌদি আরবে যান।
জেয়ারতে বাইতুল্লাহ ট্রাভেলস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, অনেকেরই বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকে না। এমনকি জীবনে কখনো ঢাকায়ও আসেননি— এমন মানুষও হজে যান। মক্কা ও মদিনায় কীভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়, তা অনেকেই জানেন না। তাই এমন এজেন্সি বেছে নেওয়া উচিত, যারা যাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং পুরো সফরে পাশে থাকে।
তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে সাধারণ হজ প্যাকেজের মূল্য শুরু হচ্ছে ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা থেকে।
গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন বলেন, হজ বা ওমরাহ প্যাকেজ নেওয়ার আগে হোটেলের অবস্থান অবশ্যই দেখতে হবে। শুধু কম দামের দিকে নজর দিলে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রতিষ্ঠানটি ৫ তারকা হোটেল ও ভিআইপি তাঁবুসহ ১৮ থেকে ২০ দিনের ভিআইপি হজ প্যাকেজ ১৪ লাখ টাকায় দিচ্ছে।
Advertisement
আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, হজে যাওয়ার আগে আমরা ৯ থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দিই। মক্কা ও মদিনার পরিবেশ, যাতায়াত, আবাসন, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। প্যাকেজের দাম দেখে নয়, বরং এজেন্সির সুনাম, সেবার মান ও হোটেলের অবস্থান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন এজেন্সি নানান ধরনের অফারও দিচ্ছে। মাবরুর এয়ার ট্রাভেলস জানিয়েছে, মেলা চলাকালে ১০ জনের হজ গ্রুপ বুকিং দিলে একজনকে বিনামূল্যে ওমরাহ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া মক্কা মদিনা ট্রাভেল সার্ভিসেস হজ বুকিংয়ে ১০০ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩ হাজার ৩০০ টাকা) এবং ওমরাহ বুকিংয়ে ৫০০ সৌদি রিয়াল ছাড় দিচ্ছে।
আরও পড়ুন হজ কত প্রকার, কোনটি উত্তম?এবারের মেলায় ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের হজ প্যাকেজ রয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের বড় অংশই বলছেন, তারা দামের চেয়ে হোটেলের দূরত্ব, সুযোগ-সুবিধা এবং এজেন্সির সেবার মানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে নানান বয়সী মানুষের ভিড়। সম্ভাব্য হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন স্টলে খেজুর, কফি ও চকলেট দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। কোথাও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) প্রযুক্তির মাধ্যমে হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা দেখানো হচ্ছে, আবার কোথাও মিনিয়েচার ম্যাপ ব্যবহার করে মক্কা, মদিনা ও হজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, মেলায় অংশ নেওয়া সব এজেন্সিই হাবের সদস্য। ফলে হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার সুযোগ নেই। চুক্তি অনুযায়ী কোনো সেবা না পেলে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। গত বছর আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মের বেশিরভাগ ঘটনাই ঢাকার বাইরের অনিবন্ধিত এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ঘটে। তাই আগামীতে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও হজ মেলার আয়োজন করা হবে, যাতে মানুষ নিবন্ধিত ও নির্ভরযোগ্য এজেন্সি সম্পর্কে সহজে জানতে পারেন।
এসএম/কেএসআর