২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে একের পর এক বিতর্কের মধ্যেই নতুন একটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেইর প্রশাসন একটি জরুরি ডিক্রি জারি করেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা ও দেশটির নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা সহিংসতায় উসকানি দেওয়া বিদেশিদের বহিষ্কারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
Advertisement
ফরাসি সংবাদমাধ্যম রেডিও মন্টে কার্লো (আরএমসি) জানিয়েছে, ডিক্রিটি এখনও পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি ব্যক্তি যদি মৌখিক বা লিখিতভাবে আর্জেন্টিনা কিংবা আর্জেন্টাইন নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ান বা সহিংসতায় উসকানি দেন, তাহলে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যেতে পারে।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। স্পেনের কাছে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় লিওনেল মেসির দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল খেলোয়াড়দের আচরণ।
ফাইনালের পর স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং নাহুয়েল মোলিনা সমালোচনার মুখে পড়েন। এছাড়া আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার জেরে ফিফা ইতোমধ্যেই পারেদেস, মোলিনা ও আয়ালার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে।
Advertisement
শুধু ফাইনাল নয়, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা দল। ম্যাচ শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বার্তা ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করছে ফিফা।
এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধেও বর্ণবাদী আচরণ ও বৈষম্যমূলক স্লোগানের অভিযোগে তদন্ত চলছে। ডিক্রির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আর্জেন্টিনা সরকার বলেছে, সম্প্রতি দেশ ও দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যে বৈরী আচরণ ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা দেখা গেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট মিলেই সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি, তবে বিশ্বকাপের পর তিনি একাধিকবার আর্জেন্টিনাবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রচারণার অভিযোগ তুলেছেন। এমনকি ব্রাজিলের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনার সময় তিনি অভিযোগ করেন, ব্রাজিল ও মেক্সিকো সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে একটি প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এ প্রসঙ্গে মিলেই বলেন, ‘যারা আর্জেন্টিনা প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা আমাদের দেশে স্বাগত নয়।’
Advertisement
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই ডিক্রি রাজনৈতিক মতভেদ, একাডেমিক আলোচনা বা গঠনমূলক সমালোচনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। সংবিধান অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিক্রিটি বর্তমানে ‘জরুরি প্রয়োজন ও জরুরি অবস্থা’ (Decree of Necessity and Urgency) হিসেবে জারি করা হয়েছে। এখন এটি প্রথমে পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পর্যালোচনার মুখোমুখি হবে। এরপর প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে উত্থাপন করা হবে। উভয় কক্ষ একযোগে এটি বাতিল না করলে ডিক্রিটি কার্যকর থাকবে।
আইএইচএস/