ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশনে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়। তবে নিম্নমানের খাবার (টক হয়ে যাওয়া ও নষ্ট চাল-ডাল) পরিবেশনের কারণে সেই খাবার মুখে তুলতে পারেনি অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে নবীনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।
Advertisement
শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য মোট ১৪ টি কমিটি করে দেয় প্রশাসন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের আপ্যায়ন উপকমিটি করে। কমিটি কুষ্টিয়ার ধোঁয়া রেস্টুরেন্টে থেকে খাবার কিনে প্রত্যেক বিভাগে আলাদা করে খাবার পোঁছে দেয়। এই কমিটিকে শুরুতে ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এই বাজেট কমিয়ে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাদ্দ করেন ভ্যাটসহ ২৫০ টাকা। খাবার নিয়ে আসা হয় ৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট। কুষ্টিয়ার ধোঁয়া রেস্টুরেন্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক দ্বারা পরিচালিত।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওরিয়েন্টেশন শেষে সরবরাহকৃত খাবারের প্যাকেটে থাকা পোলাও ভালোভাবে সিদ্ধ বা ফোটা ছিল না এবং ডাল থেকে টক গন্ধ ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। খাবার মুখে দেওয়ার পরই তা নষ্ট ও পচা বলে বুঝতে পারেন তারা। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেই খাবার না খেয়ে ফেলে দেন।
Advertisement
ক্ষোভ প্রকাশ করে নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, খাবারের প্যাকেট খোলার পর সামান্য মুখে দেওয়ার পরেই বুঝতে পারি ডাল নষ্ট হয়ে গেছে এবং পোলাও থেকেও দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। নষ্ট হওয়ায় আমাদের অনেকের পক্ষেই সেই খাবার খাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আমরাদের অনেকেই ফেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন সরকার শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে: শিক্ষামন্ত্রীখাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে চারুকলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কাছে আসা খাবারটি অত্যন্ত বাজে ছিল এবং বিভাগের কেউ তা খেতে পারেনি। তারা উল্লেখ করেন, বাজারদর অনুযায়ী এই খাবারের মান সর্বোচ্চ ১৮০ টাকার বেশি হতে পারে না।
একই অভিজ্ঞতা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাল একেবারেই খাওয়া যায়নি এবং ডাল ফেটে বা পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রচণ্ড ক্ষুধার কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে সামান্য মুখে দিলেও পুরো খাবারটা কেউই শেষ করতে পারেনি। তাদের মতে, বাইরে এই মানের খাবারের দাম সর্বোচ্চ ১০০ টাকা হতে পারে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, চাল ঠিকমতো ফুটেনি বা সেদ্ধ হয়নি, আর ডাল ছিল টক। সার্বিকভাবে খাবারের মান ছিল একদমই নিম্নস্তরের, যা বাইরে কিনতে গেলে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা লাগতে পারে।
Advertisement
একইভাবে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, চাল-ডালের মান এতটাই খারাপ ছিল যে তারা পেট ভরে খেতেই পারেননি। একমাত্র গোস্ত ছাড়া বাকি সব কিছুই খাওয়ার অযোগ্য ছিল। এছাড়া ডিম কিছুটা ভালো থাকলেও টক ডালের ভেতর থাকার কারণে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খাবারও ঠিকমতো খাওয়া হয়নি, আবার সময়মতো বাসায়ও ফেরা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, খাবারগুলো শহরের হোটেল থেকে রান্না করে সরবরাহ করা হয়েছিল। এতে যদি কোন খাবারে ত্রুটি থাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারবো না। কারণ খাবারগুলো এখানে রান্না করা হয়নি।
ইরফান উল্লাহ/এনএইচআর