আইন-আদালত

মামলা বাড়লেও নিষ্পত্তি কম, আপিল বিভাগে বিচারপতি সংকট কাটছে না

দিন যত যাচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যাও তত বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না বিচারপতি কিংবা বেঞ্চের সংখ্যা। এতে দিন দিন তীব্র হচ্ছে মামলা জট। ভোগান্তি বাড়ছে বিচারপ্রত্যাশীদের। তবে এসব বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ বা তৎপরতার কোনো আলামত মিলছে না।

Advertisement

আপিল বিভাগে বিচারক সংকট কাটছেই না। এতে নিষ্পত্তি কমে বাড়ছে মামলা। আবার আপিল বিভাগ থেকে সম্প্রতি বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। তথ্য বলছে, বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। গুঞ্জন রয়েছে, সংকট নিরসনে দ্রুত আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জট ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারকের সংখ্যা এমনভাবে বাড়ানো উচিত যেন আপিল বিভাগে তিন থেকে চারটি বেঞ্চ গঠন করা যায়। আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনায় একটি বেঞ্চে কতজন বিচারপতি থাকবেন আইন ও সংবিধানে সেটির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংবিধান ও আইনে উল্লেখ না থাকলেও ডেকোরাম অনুযায়ী কমপক্ষে তিনজন বিচারক নিয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। কখনো কখনো একজনের অসুস্থতা বা অনুপস্থিতির কারণে দুজন বিচারপতি নিয়েও বিচারকাজ চলে।

জানা গেছে, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একদিনে চারটি মামলার শুনানি হয়েছে। এরমধ্যে একটি নট টুডে ও আরেকটি আউট অব লিস্ট (কার্যতালিকা থেকে বাদ) মর্মে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আইনজীবীদের দাবি, নতুন নিয়োগ দিয়ে বিচারপতি সংকট কমাতে হবে। মামলা নিষ্পত্তি বাড়াতে আপিল বিভাগে কয়েকটি বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন।

Advertisement

এখন একটি বেঞ্চ দিয়ে আপিল বিভাগের বিচারকাজ চলমান। এতে গুরুত্বপূর্ণ আপিল, সাংবিধানিক, ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তিতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। আইনজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। মামলা জট কমাতে আপিল বিভাগে এ মুহূর্তে অন্তত ছয়-সাতজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের পদ্ধতি ও যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার দাবির মুখে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতি পদত্যাগ করেন। এরপর হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট আপিল বিভাগে চারজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ছয়জনে।

আরও পড়ুন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস / সরছেন না আওয়ামী লীগ-জামায়াতপন্থিরা, নিয়োগ না পেয়ে ক্ষোভ বিএনপিপন্থিদের

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসে বিচারকাজ পরিচালনা করতেন। জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে প্রধান করে তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে আপিল বিভাগে আরেকটি বেঞ্চ গঠন করে দেন। ফলে তখন আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চে বিচারিক কাজ ও মামলার শুনানি চলতো।

Advertisement

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম। ২০২৫ সালের মার্চে আরও দুজন বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তখন আপিল বিভাগে বিচারপতি ছিলেন সাতজন। এরমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

চলতি বছরের গত ১৫ জুলাই আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসরে গেছেন। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান সাংবিধান অনুযায়ী অবসরে গেছেন। বর্তমানে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীরসহ চারজন বিচারপতি রয়েছেন। আপিল বিভাগে বর্তমানে অন্য তিন বিচারপতি হলেন- রেজাউল হক, এস এম এমদাদুল হক ও ফারাহ মাহবুব।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, বিচারক স্বল্পতার কারণে আপিল বিভাগে নতুন বেঞ্চ গঠন করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, অতীতে আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চে বিচারিক কাজ পরিচালিত হয়েছে। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে আটজন বিচারক ছিলেন। তখন মামলা নিষ্পত্তি গতি পেয়েছিল।

আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনজীবী হিসেবে বিচারপ্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা, আদালতের কর্মব্যস্ততা ও বিচারব্যবস্থার বাস্তব চিত্র প্রতিদিন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ হচ্ছে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান লক্ষণীয়।

আরও পড়ুন আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে শিশির মনিরের চিঠি

মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রার্থীদের মাঝে হতাশা বিরাজমান। বর্তমান সময়ে আইনের বিশেষায়িত শাখা-প্রশাখা বিকশিত হয়েছে। সেজন্য বিচারের ক্ষেত্রেও বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা আবশ্যক। কিন্তু আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা কম হওয়ায় বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিচারাধীন মামলার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা হ্রাস এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির নিয়োগ প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।

আপিল বিভাগের বেঞ্চ ও বিচারপতি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, আপিল বিভাগে একদিনে চারটি মামলার শুনানি হলে বাকি মামলাগুলোর অবস্থা কী হয়? অপেক্ষমাণ বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের কী হবে? প্রধান বিচারপতি বিদেশে বা বাইরে কোথাও সফরে থাকলে, একই সময়ে আপিল বিভাগের অন্য একজন বিচারপতি কোনো কারণে ছুটিতে গেলে বা অনুপস্থিত থাকলে তখন অবস্থাটা কী হবে?

জানতে চাইলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান জাগো নিউজকে বলেন, হাইকোর্টে বিভিন্ন মামলাসহ ডেথ রেফারেন্স পর্যায়ক্রমে শুনানি হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হয়। এক্ষেত্রে আপিল বিভাগে অপেক্ষমাণ মামলাগুলো দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম, বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে বিচারক সংকট তীব্র। খুব দ্রুত বিচারক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। যোগ্য ও দক্ষতার ভিত্তিতে এরকম বিচারক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন, যেন অন্তত পৃথক তিনটি বেঞ্চ গঠন করতে পারেন প্রধান বিচারপতি।

তিনি জানান, আপিল বিভাগে ছয়-সাতজন বিচারক নিয়োগ দিলে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেওয়া দরকার, যেন আরও কমপক্ষে দুটি বেঞ্চ গঠন করা যায়। মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়লে সুফল পাবেন জনগণ।

তিনি বলেন, মামলার তুলনায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বেশি। আমাদের দেশেও জনগণ ও মামলার অনুপাতে বিচারপতি নিয়োগ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন আপিল বিভাগে কমছে বিচারক, চলতি বছরই হতে পারে নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জাগো নিউজকে বলেন, আপিল বিভাগের ৩৯ হাজার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অন্তত তিন-চারটি বেঞ্চ দরকার। আপিল বিভাগে ২০০৯ সালে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন। এরপর আর কখনো এত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, মামলাজট কমাতে অবিলম্বে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতির পদ পূরণ করে তিনটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। আপিল বিভাগে বর্তমানে চারজন বিচারপতি রয়েছেন। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চারজন ও সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে দক্ষ, অভিজ্ঞ তিনজনসহ মোট সাতজনকে আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

‘দিন দিন আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। অতীতে মামলার লাগাম টানা সম্ভব হলেও বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৯ হাজার। এরমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। বিচারাধীন এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একাধিক বেঞ্চ গঠন করা দরকার। বিচারক সংকটের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যোগ্য, দক্ষ ও সৎ বিচারকদের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত’—যোগ করেন সৈয়দ মামুন মাহবুব।

আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জাগো নিউজকে বলেন, আপিল বিভাগের বিচারক সংকট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাই অবগত। বিচারক সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় মামলার শুনানি করা যাচ্ছে না। অন্তত আরও ছয়-সাতজন বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে দু-তিনটি বেঞ্চ গঠন করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে। মামলার জটও অনেকাংশে নিরসন হবে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য শুনানি হয়। মামলা জট কমাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে আরও দুটি বেঞ্চ গঠন করা হলে অন্য মামলাগুলোও নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তখন বিচারপ্রার্থীরাও দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাবেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইফুল আলম বলেন, আপিল বিভাগে হাজারো মামলা পেন্ডিং। এখানে ২০ জন বিচারক নিয়োগ করে চার থেকে পাঁচটি বেঞ্চ গঠন করা দরকার। পাশাপাশি শুধু মামলা জট কমানো নয়, জুডিসিয়ারির নতুন একটা কাঠামোও তৈরি করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন আদালতের জট কমাতে বিচারক বাড়ানোর পাশাপাশি মিথ্যা মামলা ঠেকানোর তাগিদ

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকীর মতে, যে পরিমাণ মামলা তাতে আপিল বিভাগে তিন-চারটি বেঞ্চ থাকা উচিত। এছাড়া আগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে খুব বেশি আপিল করা হতো না। এখন সে সংখ্যাটা বেড়েছে। ফলে আপিল বিভাগের ওপর চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান মামলা নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ছে না। এ কারণেই মামলা জট তৈরি হচ্ছে।

সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ

সংবিধানে আপিল বিভাগে বিচারপতির কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন সময়ে বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সংবিধানের ৯৪ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ ও নিয়োগ করেন।

ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি এবং প্রত্যেক বিভাগে আসন গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজনবোধ করিবেন, সেরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হইব।’

সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিচারপতি পদে থাকা যায়। এর আগে, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা ছিল চারজন। তখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি। দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ আর বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টি। যেখানে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চারজন।

সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে ১১জন বিচারপতি ছিলেন। তখন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২৬০টি। ২০১১ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ১০ জন। বিচারাধীন মামলা ছিল ১২ হাজার ৪৪১টি। ২০১৩ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ১০ জন; বিচারাধীন মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩৩৮টি।

২০১৭ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৯ জন; তখন বিচারাধীন মামলা ছিল ১৬ হাজার ৫৬৫টি। ২০২২ সালে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৯ জন; বিচারাধীন মামলা ছিল ১৯ হাজার ৯২৮টি। ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে ৩১ হাজার ১২০টিতে পৌঁছায়। বছর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিচারাধীন মামলা বাড়লেও বিচারপতির সংখ্যা বা বেঞ্চ বাড়েনি।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, আপিল বিভাগের এ সংকট নিরসনে বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ বাড়ানোই একমাত্র সমাধান। তারা এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।

এফএইচ/এমকেআর