ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল ঘটনার জেরে সম্ভাব্য বড় শাস্তির মুখে থাকা আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি জাতীয় দল ছাড়লেও প্রয়োজন হলে ফিফা বৈশ্বিকভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
Advertisement
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলে হারের পর মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কেন্দ্রে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী পারেদেস। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, শেষ বাঁশি বাজার পর তিনি স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকে লাথি মারেন এবং পরে গলায় আঘাত করেন। এছাড়া মিডফিল্ডার গাভিকেও মাটিতে ফেলে দেন।
আরও পড়ুন আবারও বেপরোয়া পারেদেস, হলুদ কার্ড দেখলেন রেফারিকে ধাক্কা মেরেফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি সহিংস আচরণের জন্য তিন ম্যাচ করে নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ নয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন বর্তমানে বোকা জুনিয়র্সে খেলা এই মিডফিল্ডার।
তবে বিশ্বকাপের কয়েক দিন পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পারেদেস বলেন, আমি জানি না। এটা সময় নিয়ে ভাবার বিষয়। সবকিছু হজম করতে হবে, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করাও প্রয়োজন।
Advertisement
এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসছে, পারেদেস যদি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন, তাহলে তো জাতীয় দলের ম্যাচে তার নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর যাবে। সেক্ষেত্রে ফিফা কিভাবে শাস্তি দেবে?
আরও পড়ুন ইংল্যান্ডে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলারএখানে একটি নিয়ম আছে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে সব ধরনের ফুটবলে কার্যকর করার ক্ষমতা রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার।
এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ইতালির জর্জিও কিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার ঘটনায় উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজকে চার মাস সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। তবে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়। ফলে পারেদেসের ক্ষেত্রে একই ধরনের বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এখনও পারেদেসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় দেয়নি ফিফা। যদিও নিয়ম অনুযায়ী নয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সুযোগ রয়েছে, অতীতের নজির বিবেচনায় তার ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
Advertisement
এদিকে একই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে একটি সম্পন্ন এবং একটি চেষ্টাকৃত আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধেও পৃথকভাবে আগ্রাসী আচরণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগত শাস্তিই নয়, পুরো আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, ম্যাচ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু না হওয়া, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের ঘটনা।
তদন্তে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে এএফএকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুনতে হতে পারে। গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠের ম্যাচে আংশিক বা পুরো স্টেডিয়াম দর্শকশূন্য রাখার মতো কঠোর শাস্তিও দিতে পারে ফিফা।
এমএমআর