বন্ধ হয়ে গেলো রংপুরের সর্বশেষ টিকে থাকা একমাত্র সিনেমা হল ‘শাপলা টকিজ’। গত শুক্রবার থেকে এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। ফলে বিভাগীয় শহরটিতে আর কোনো সিনেমা হল রইলো না।
Advertisement
শনিবার (১ আগস্ট) সিনেমা হল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলের দায়িত্বে থাকা মো. শাহাবুদ্দিন।
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শাপলা টকিজের যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৮ সালের ১৬ জুন। হলটির মূল মালিক ছিলেন রংপুরের ব্যবসায়ী মাসুম মিয়া। ২০০৭ সালে তিনি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। এরপর তার ভাই মন্টু মিয়া হলটির দায়িত্ব পান। কিন্তু ধীরে ধীরে দর্শক কমে যাওয়ায় এবং লোকসানের কারণে তিনি হল ভাড়া দেন। হলটি ভাড়া নেন চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল হোসেন।
মন্টু মিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা এটি পরিচালনার দায়িত্ব পান। ২০০৬ সাল থেকে বন্ধ হওয়ার আগপর্যন্ত হলটি ভাড়ায় চালাচ্ছিলেন কামাল হোসেন।
Advertisement
সম্প্রতি শাপলা টকিজে সিনেমা দেখানোর আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন বলেন, হলটি ভাড়ায় পরিচালিত হলে অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠে। এটি আমরা মেনে নিতে পারিনি। ফলে রংপুর চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে হলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দুই যুগ আগেও রংপুর শহর এলাকায়ই ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, সেনা অডিটোরিয়াম, বিডিআর হল, শাপলা টকিজ, দরদী হল, নূরমহল, চায়না টকিজ ও রুমা হল সচল ছিল।
এছাড়াও গঙ্গাচড়া উপজেলার মিলন টকিজ ও বনরূপা, মিঠাপুকুরের ঝিনুক, সোহাগ, নূপুর ও বলাকা, বদরগঞ্জের মিতা ও কথাকলি, কাউনিয়ার ঝংকার ও সানাই, পীরগাছার মিতা, সদরের পাগলাপীরের মেরি ও ভাই ভাই টকিজ, নজিরের হাটের বন্ধু টকিজ এখন পুরোপুরি বন্ধ।
Advertisement
জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম সিনেমা হল ‘রংপুর ড্রামাটিক’ ছিল রংপুর শহরে। ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসানের পর ‘রংপুর ড্রামাটিক’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মডার্ন হল’। পরে পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসনকালে মডার্ন হলে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তখন থেকেই মূলত ওই হলে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যায়।
এর বেশ কয়েক বছর পর মডার্ন হলকে সংস্কার করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রসহ নাটক-থিয়েটারের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। পরে এ হলটির নাম রাখা হয় টাউন হল। এখন সেখানে আর সিনেমা দেখানো হয় না। বর্তমানে এখানে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশসহ নিয়মিত বিভিন্ন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৫৫-৬০ সালের দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র বর্তমান সিটি বাজারের বিপরীত দিকে পাকিস্তানি এক ওষুধ ব্যবসায়ী ওরিয়েন্টাল হল নির্মাণ করেন। প্রায় ওই সময়েই টাউন হলের বিপরীত দিকে রূপালি হলের (পরবর্তী নাম লক্ষ্মী) যাত্রা শুরু হয়।
তৎকালীন সময়ে মূলত এ দুটি হলই ছিল দর্শকদের চলচ্চিত্র বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র। ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে বন্ধ হয় ওরিয়েন্টাল হল। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে না পেরে ২০০৫ সালে লক্ষ্মী হলও বন্ধ হয়ে যায়। জিতু কবীর/কেএসআর