বগুড়ার সাত সংসদ সদস্য বগুড়ার উন্নয়নের ব্যাপারে এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
Advertisement
রোববার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া শহরের মম ইন অডিটোরিয়ামে তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে হাইটেক পার্ক তৈরি সম্ভব হয়নি। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে উন্নত হাইটেক পার্কের মাধ্যমে তরুণরা রেমিট্যান্স আনছে। বর্তমান সরকারের আগামী দেড় বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ৬৪ জেলায় ১১ হাজার ২০০ জন যুব ও তরুণীকে আইটি ও এআই বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা হবে। প্রয়োজনে কালিয়াকৈরের রেডি হাইটেক পার্ক চালু করে তরুণদের উচ্চমানের ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাবও দেন তিনি।
বগুড়ার অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের চিত্র তুলে ধরে মীর শাহে আলম আরও বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত বগুড়া জেলায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া সংযোগ রেলপথ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কিংবা নতুন জোন অফিস স্থাপন যা কিছু হচ্ছে, তা মূলত শূন্যস্থান পূরণ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতেই এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
Advertisement
উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় বগুড়ায় দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী বগুড়া থেকে মাদারগঞ্জ পয়েন্টেই দ্বিতীয় যমুনা সেতু হওয়া উচিত এবং বগুড়াবাসী এই সেতু এখান থেকেই চায়।
শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের প্রসঙ্গ টেনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, বহু প্রতীক্ষিত বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বহুমাত্রিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শহরতলির সুবিধাজনক স্থানেই এটি স্থাপন করা হবে। এছাড়া বগুড়া তিনমাথা এলাকায় বহুমাত্রিক সুবিধার আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ, পরিদর্শনের কথা নিশ্চিত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বগুড়ার ১২টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে তরুণ-তরুণীদের আরও বেশি দক্ষ ও স্বাবলম্বী করার আহ্বান জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
কেজে/এএসএম