বন্ধুত্ব এমন একটা সম্পর্ক, যেখানে রক্তের বাঁধন নেই, তবু থাকে নিঃশর্ত আস্থা আর অসংখ্য স্মৃতি। সেই সম্পর্ককে একদিনের ছবি তোলার উপলক্ষে গুটিয়ে ফেললে অনেক কিছু হারিয়ে যায়। বন্ধু দিবস এলেই আমরা ভাবি কেক কাটতে হবে, ছবি তুলতে হবে, নয়তো কোনো একটা জায়গায় দল বেঁধে বেরিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু বন্ধুত্বের আসল সৌন্দর্য কি সেখানে, নাকি অন্য কোথাও।
Advertisement
ধরুন, বন্ধুদের নিয়ে হইচইয়ের বদলে একদিন বসলেন একেবারে চুপচাপ কোনো জায়গায়। কোনো পার্কের কোণে, বা ছাদের এক কোণে। কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে শুধু নিঃশ্বাস নিলেন, কোনো কথা না বলে। অদ্ভুত শোনালেও এমন নিরিবিলি মুহূর্ত মানসিক চাপ কমায়, আর কথা না বলেও একজন আরেকজনের কাছাকাছি অনুভব করেন। এরপর যখন কথা শুরু হয়, সেটা হয় অনেক বেশি আন্তরিক।
আরেকটা কাজ করা যায়, যেটা শুনতে সাধারণ মনে হলেও বেশ কার্যকর। একটা খাতা নিয়ে বসে লিখে ফেলুন, কোন কোন মুহূর্তে বন্ধুরা আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিল। হয়তো কোনো পরীক্ষার আগের রাতে ফোনে কথা বলে সাহস জুগিয়েছিল, বা কঠিন সময়ে চুপচাপ পাশে বসে ছিল। এই লেখাগুলো একসময় বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারেন। অনেক সময় আমরা কৃতজ্ঞতার কথাটা মনে রাখি, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না। খাতায় লেখা সেই কথাগুলোই একদিন হয়তো মুখে বলার সাহস দেয়।
আরও পড়ুন বন্ধুত্ব ভাঙার কষ্ট কি প্রেমের বিচ্ছেদের চেয়েও বেশিএরপর মনে করুন শৈশবের কথা। তখনকার বন্ধুত্বে কোনো হিসাব ছিল না, ছিল শুধু খেলা আর হাসি। বড় হয়ে সেই সারল্য অনেকটাই হারিয়ে যায়। তাই এবার বন্ধু দিবসে ফিরে যেতে পারেন সেই দিনগুলোতে। পুরোনো কোনো খেলা খেলতে পারেন, একসঙ্গে ছবি আঁকতে বসতে পারেন, বা ছোটবেলার প্রিয় সিনেমাটা আবার দেখতে পারেন। এই ছোট ফিরে যাওয়াটুকু হাসি আর সৃজনশীলতা দুটোই ফিরিয়ে আনে।
Advertisement
শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে সরে যাওয়াও একটা ভালো উপায়। কাছাকাছি কোনো পার্ক বা লেকের ধারে হাঁটতে বেরিয়ে পড়ুন বন্ধুদের নিয়ে, সঙ্গে ছোট্ট একটা পিকনিকের আয়োজনও করে ফেলতে পারেন। খাওয়ার প্লেট হাতে নিয়ে গল্প করতে করতে সময় কীভাবে কেটে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। প্রকৃতির মধ্যে থাকা মানুষকে এমনিতেই একটু ধীর করে দেয়, আর সেই ধীরতাই কথোপকথনকে গভীর করে তোলে।
এখানেই আসে সবচেয়ে কঠিন কিন্তু জরুরি কাজটা, একদিনের জন্য ফোন সরিয়ে রাখা। আমরা এখন এত মেসেজ চালাচালি করি, অথচ চোখে চোখ রেখে কথা বলার সময় কমে যাচ্ছে দিন দিন। বন্ধু দিবসে কয়েক ঘণ্টার জন্য ফোনটা দূরে রেখে শুধু বন্ধুদের দিকে মনোযোগ দিন। এমন সময় খুব কম হাতে থাকে, তাই এই কয়েক ঘণ্টাই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে দামি উপহার।
চাইলে একটা চিঠিও লিখে ফেলতে পারেন। ডিজিটাল ম্যাসেজের এই যুগে হাতে লেখা একটা চিঠি এখনো আলাদা জায়গা দখল করে থাকে। কেন সেই বন্ধুটা জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, সেটা কয়েকটা লাইনে লিখে দিন। বহু বছর পর হয়তো সেই চিঠিটাই কোনো ড্রয়ারের কোণে খুঁজে পাওয়া যাবে, আর তখন সেই মুহূর্তটা আবার জীবন্ত হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বেশি থাকেবন্ধু দিবসের আসল সৌন্দর্য তাই কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে নেই। আছে সময় দেওয়ায়, মন খুলে কথা বলায়, আর একে অপরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে। ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে যদি অন্তত একটা দিন এভাবে কাটানো যায়, সেই স্মৃতি একদিনের থাকে না, থেকে যায় অনেক দিনের সঙ্গী হয়ে।
Advertisement
কেএসকে