বাংলাদেশের এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি বাসচালকের বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর এলাকা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
Advertisement
উদ্ধার কিশোরীর বয়স ১৩ বছর। সে ঢাকার হযরত আলী মহিলা মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার আব্দুল্লাহপুরে।
আরও পড়ুন তসলিমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমার: শুভেন্দুকিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১ আগস্ট) সে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। এ সময় এক বাসচালক তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দেখানোর প্রস্তাব দেন। পরে তাকে সাতক্ষীরায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অভিযুক্ত চালক পানীয়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে কিশোরীকে পান করান। এরপর তার অজান্তেই তাকে সীমান্ত পার করে ভারতের তরালি সীমান্ত এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
Advertisement
জ্ঞান ফেরার পর মেয়েটি নিজেকে সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি স্থানে দেখতে পায়। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের বালতি-নিত্যানন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নজরুল সরদারের বাড়ির সামনে তাকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন শমীক ভট্টাচার্য / ‘আজাদি স্লোগান দিলে কেউ যেন সোজা হয়ে বাড়ি ফিরতে না পারে’স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল সরদার কিশোরীকে কান্নারত অবস্থায় দেখে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন এবং প্রাথমিকভাবে আশ্রয় ও সেবা দেন। পরে বিষয়টি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও স্বরূপনগর থানাকে জানানো হয়।
কিশোরী জানায়, ‘আমি আন্টির বাসায় যাব বলে বের হয়েছিলাম। পরে আমাকে বলা হয়, আপুর বাসায় নিয়ে যাবে। সীমান্তে নিয়ে গিয়ে জীবন নামে দুই ছেলের কাছে আমাকে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তারা আমাকে এখানে রেখে চলে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় ইদানীং অপরিচিত মানুষের আনাগোনা অনেক বেড়েছে। মেয়েটিকে কান্না করতে দেখে আমরা থানায় এবং বিএসএফকে খবর দেই। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।’
Advertisement
এ ঘটনার পর স্বরূপনগর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ডিডি/কেএএ/