২০১৮ সালের ১০ জুলাইয়ের ঘটনা। অভিযান চালিয়ে এক কেজি ২১০ গ্রাম হেরোইনসহ নুরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে র্যাব। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে এর আগেও তিনটি মাদক মামলা ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
Advertisement
মামলাটি বর্তমানে রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন। প্রায় আড়াই বছর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র দুজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বারবার সমন জারির পরও বেশিরভাগ সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। বর্তমানে আসামিও নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না। ফলে মামলাটি বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এমন চিত্র শুধু একটি নয়; রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন।
আরও পড়ুন মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে মাদক কারবারিদের হামলামাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ২৫ হাজার ৬৭১টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন বিভিন্ন আদালতে ছয় হাজার ৭৪৯টি, মহানগর দায়রা জজ আদালতে সাত হাজার ১৬০টি, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯ হাজার ৩৫৫টি এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে আরও তিন হাজার ৬০৭টি মাদক মামলা বিচারাধীন। এছাড়া বিভাগীয় বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনালেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
‘পুলিশের দায়িত্ব আসামিদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। শাস্তি প্রদান সম্পূর্ণ বিচার বিভাগের বিষয়। তবে অনেক আসামি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। আসামিরা কীভাবে দ্রুত জামিন পাচ্ছেন, সেটি আদালতের বিষয়’—রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র
Advertisement
রাজশাহীতে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিন দিন জোরদার হচ্ছে। প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও দেশীয় মদ। গ্রেফতার হচ্ছেন মাদক কারবারি ও সেবীরা। তবে এসব অভিযান তেমন কাজে আসছে না।
পুলিশের দাবি, অভিযানে গ্রেফতার হওয়া অনেক আসামিই অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার নারী/ছবি-জাগো নিউজ
রাজশাহী জেলা পুলিশ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সূত্র বলছে, মাদক নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদের নির্দেশনা এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের তত্ত্বাবধানে ২১ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের প্রথম দিনে বিভিন্ন থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ২ দশমিক ৫ লিটার দেশীয় মদ, ১১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৯০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে। একই সঙ্গে মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগে পাঁচজন এবং বিভিন্ন পরোয়ানাভুক্ত সাতজনসহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
Advertisement
পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ অভিযানে শুধু মাদক নয়; অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক, চোরাচালান পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি জিআর, সিআর ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা মুলতবি গ্রেফতারি পরোয়ানাও কার্যকর করা হচ্ছে।
‘বেশ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে ১৫টি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে। তবুও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। কারা জামিনের যোগ্য বা অযোগ্য, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তারা যদি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকেন অথবা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়ে শাস্তির মুখোমুখি হন, তাহলে পুনরায় এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমবে’—আরএমপি মুখপাত্র
আরএমপি, জেলা পুলিশ ও র্যাবের গত তিন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিলে ১৩৫টি, মে মাসে ১৭২টি এবং জুনে ১৭৫টি মাদক সংক্রা মামলা করা হয়েছে। এই তিন মাসে ৪৮২টি মামলায় ৬৭৪ জন আসামির মধ্যে ৫৮৩ জন মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৭৫ কেজি গাঁজা, প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ইয়াবা, প্রায় সাত হাজার নিষিদ্ধ ট্যাবলেট এবং দুই হাজার ৭০০ বোতল অ্যালকোহল। জব্দ হওয়া এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকারও বেশি।
প্রায় এক হাজার মাদক মামলায় এক হাজার ১০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন নেশাজাতীয় দ্রব্য পানের পর একে একে ৫ জনের মৃত্যুআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ ও আসামি গ্রেফতার করা হলেও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষীদের অনুপস্থিতি, মামলার জট এবং সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগের কারণে অনেক অভিযুক্ত আবারও মাদক কারবারে ফিরে আসছেন। ফলে মাদক নির্মূলে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। তাদের মতে, পুলিশের অভিযানের পাশাপাশি দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা—এই তিনটি একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলেই মাদকের বিরুদ্ধে টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব।
‘আমরা মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করছি। কিন্তু তারা খুব দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন’—আরএমপি কমিশনার
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ও রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজশাহী জেলা পুলিশ সারাদেশের মতো মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। জেলা পুলিশের উদ্যোগে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। এসব অভিযানে নিয়মিত মাদক কারবারিদের আটক করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানাও করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব আসামিদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। শাস্তি প্রদান সম্পূর্ণ বিচার বিভাগের বিষয়। তবে অনেক আসামি অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। আসামিরা কীভাবে দ্রুত জামিন পাচ্ছেন, সেটি আদালতের বিষয়।’
মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত/ছবি-জাগো নিউজ
আরএমপি মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, ‘নতুন পুলিশ কমিশনার যোগদানের পর থেকে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ফলে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান দিন দিন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। মাদক বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে আরএমপি। তালিকা বিশ্লেষণ করে তাদের অবস্থান ও গতিবিধি নির্ধারণের পর সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন মদ কিনতে টাকা দিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ভিডিও ভাইরালতিনি আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে ১৫টি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে। তবুও তারা জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছেন। কারা জামিনের যোগ্য বা অযোগ্য, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা বিচার বিভাগের রয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, তারা যদি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকেন অথবা দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়ে শাস্তির মুখোমুখি হন, তাহলে পুনরায় এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা কমবে।’
‘সামাজিকভাবেও আমাদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের সচেতন করতে সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিলে সমাজে মাদক বিক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। এভাবেই সমাজ থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় মাদক নির্মূল করা সম্ভব’, বলেন আরএমপির মুখপাত্র।
‘কোনো ব্যক্তিকে মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী ১৫-২১ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তারা এই সময়সীমা মেনে চলেন না। ফলে মাদক মামলায় অভিযোগপত্র বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়’—আইনজীবী
মাদক নির্মূলে নিজেদের উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছি, যাতে যেসব সীমান্তপথ দিয়ে মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করে, সেগুলো কার্যকরভাবে চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করা যায়। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা মাদক কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এই অবৈধ পেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।’
আরও পড়ুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান / সাম্য হত্যা থেকে রাজীব শাহর নামাজের স্থান, ঢাকার ফুসফুসে ‘মাদকের ক্ষত’এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করছি। কিন্তু তারা খুব দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।’
তিনি বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে ৫-১০টি, আবার কারও বিরুদ্ধে ১৬টি পর্যন্ত মাদক মামলা রয়েছে। মাদক মামলার আইনি কাঠামো যদি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মতো আরও কঠোর হতো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যেত, তাহলে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিন দিন আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানান রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান।
মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার আসামিরা/ছবি-জাগো নিউজ
তিনি বলেন, রাজশাহীতে যারা মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন, তাদের অনেকেরই বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা গেলে তারা মাদক কারবার থেকে সরে এসে অন্য পেশায় যুক্ত হতে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে মাদকের বিস্তার কমবে এবং মাদকসেবীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেষ্টা করেন। কিন্তু পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের অভাবে আবারও একই পথে ফিরে যান। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে নতুন কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে আইন আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি তৌফিক মোহাম্মদ জাহেদী বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিকে মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে আটক করা হলে আইন অনুযায়ী ১৫-২১ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তারা এই সময়সীমা মেনে চলেন না। ফলে মাদক মামলায় অভিযোগপত্র বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। পাশাপাশি যেসব পুলিশ সদস্য মামলার সাক্ষী হিসেবে থাকেন, তাদের অনেকেই বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় বিচার কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবিকরোনাভাইরাস মহামারির সময় প্রায় দুই বছর ধরে বিচার কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলে জানান এই আইনজীবী।
তিনি বলেন, ‘মাদক মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবী, বিচারক এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ তিন পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।’
এসআর/এএসএম