আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁসের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ড্যাব নেতা ডা. বদরউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তার অপসারণ ও ড্যাব থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়। তবে পরে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যানার ও ফেস্টুনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
Advertisement
জানা গেছে, সকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ১৫ থেকে ২০টি ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। সেখানে ডা. বদরউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, সহকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তাকে ড্যাবের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার এবং উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয়। তবে পরে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যানার ও ফেস্টুনগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
ব্যানারগুলোতে উল্লেখ করা হয়, ড্যাব ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জাকির হোসেন জিকু, ড্যাবের আজীবন সদস্য অধ্যাপক ডা. শরীফ উদ্দিন পাঠন, অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান ফারুক এবং ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মুহাম্মদ ইসহাক সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে ডা. সোহেলের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ২০ শিশু ভর্তিএ ছাড়া ড্যাবের কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনাকেও নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ব্যানারে তুলে ধরা হয়।
Advertisement
এর আগে, গত ৩০ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপাধ্যক্ষ ডা. বদরউদ্দিন সোহেল এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়ামের কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ফাঁস হওয়া সেই অডিওতে ডা. সোহেলকে জ্যেষ্ঠ সহকর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার, কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার নষ্টের হুমকি দিতে শোনা যায়।
অডিওতে অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ও ড্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. জাকির হোসেন জিকুর পদোন্নতি আটকে রাখার বিষয়েও মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে ড্যাবের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সায়েম, কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনা এবং ডা. মো. জাহিদ হোসেন সম্পর্কেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য শোনা যায়।
ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব ও পরীক্ষাসংক্রান্ত তালিকা থেকে কয়েকজন শিক্ষকের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে কিশোরের মৃত্যুশিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান ফারুক এবং ড্যাবের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, সভাপতির এমন প্রতিহিংসামূলক পরিকল্পনায় চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। তবে ক্যাম্পাসে কারা ব্যানার টানিয়েছে, সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
Advertisement
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. বদরউদ্দিন সোহেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নাজমুল আলমও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ব্যানার কারা টানিয়েছে এবং পরে কারা অপসারণ করেছে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নাজমুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ফোনে এসব বলা যাবে না, আগামীকাল অফিসে আসেন।
হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ/এএসএম