আন্তর্জাতিক

ইরান ঘিরে বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গ দেবে উপসাগরীয় জোট?

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক যুদ্ধ। এই সংঘাতে ইরান, চীন ও রাশিয়া একই অক্ষের অংশ। এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানবে।

Advertisement

নিউইয়র্কে সাংবাদিক ম্যানাস ক্র্যানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও। 

দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পম্পেও বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের চেয়েও বড়। এটি একটি বৈশ্বিক যুদ্ধ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। শেষ পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেবে বলে বিশ্বাস করেন।  

সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে আরও আলোচনা করেন। ইরানে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা, যুদ্ধ-পরবর্তী উপসাগরীয় ঐক্যের মডেল হিসেবে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়েও আলোচনা করেছেন।

Advertisement

তিনি দাবি করেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক চাপ দেশটির অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রাকে এরই মধ্যে দৃশ্যমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যদিও বাইরের বিশ্ব সেই প্রভাব পুরোপুরি দেখতে পাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি চলমান সংঘাতের অবসানের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের কথাও তুলে ধরেন।

সংঘাতের অবসানের রূপরেখা হিসেবে তিনি তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন—অবিরাম অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সামরিক চাপ। তার মতে, এই তিনটি পদক্ষেপ একসঙ্গে চলতে হবে।

তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু-এর মধ্যে মৌলিক কোনো মতপার্থক্য নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, চীন ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তবে পম্পেওর মতে, তারা অস্বীকার করছে বলেই বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।

Advertisement

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যারা ইরানের তেল কিনছে, বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

পম্পেওর ভাষায়, আমাদের অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ভেতরে বাস্তব প্রভাব ফেলছে। বাইরে থেকে তা দেখা না গেলেও আজ ইরানের দোকানের তাক আগের মতো পূর্ণ নয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এড়িয়ে ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান ইসরাইলের পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে কারণ তেহরান মনে করে এসব দেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে না। তবে পম্পেওর বিশ্বাস, উপসাগরীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পম্পেও বলেন, বিশ্বের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অবাধ হরমুজ প্রণালি অপরিহার্য। তার ভাষায়, বিকল্পটি অকল্পনীয়। আগামী এক দশক ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালি ‘ভাড়া’ নিয়ে ব্যবহার করার চিন্তা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে পম্পেও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরেও সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পশ্চিমা সভ্যতার নিজেদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলা।

কেএম