নরসিংদীর রায়পুরায় অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করে রায়পুরা থানা পুলিশ।
Advertisement
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রায়পুরা উপজেলার চরমরজাল গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে দিপু মিয়া (২২) ও একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব হাসান রুবেল (২৬)।
জানা গেছে, শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের চরমরজাল গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে তারা ভিডিও ধারণ করে এবং এই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এমন অভিযোগে রায়পুরা থানায় ২ আগস্ট ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা বাদী হয়ে রায়পুরা উপজেলার চরমরজাল গ্রামের রাকিব হাসান রুবেল, একই গ্রামের দিপু মিয়া, ফুলদী গ্রামের আফা মিয়ার ছেলে জসিম (২৪) ও নরসিংদী সদর উপজেলার আক্কার (২২) নামে রায়পুরা থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রায়পুরা থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে দিপু মিয়া ও রাকিব হাসান রুবেলকে মরজাল ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।
আরও পড়ুন পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ৮০ বছরের বৃদ্ধেরমামলার অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় কাজী মোহাম্মদ বশির উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে রিয়াম (১৭) নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে চরমরজাল গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার বাড়ির সামনে গেলে স্থানীয় চার যুবক রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী এক পুকুর পাড়ে। সেখানে নেওয়ার পর মেয়েটিকে গভীর রাত পর্যন্ত পুকুর পাড়ে আটক রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং ধর্ষণের চিত্র ভিডিওতে ধারণ করে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে এই ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। রাত প্রায় ২টার দিকে মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার মায়ের কাছে এই ঘটনা জানায়। পরদিন মেয়েটির মা বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি মামলা করেন।
Advertisement
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর সোমবার দুই আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেলকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সজ্ঞিত সাহা/এনএইচআর/এএসএম