আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন সীমান্তে এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেড গঠন করছে বেলারুশ

ইউক্রেন সীমান্তের কাছে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে নতুন এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেড গঠন করছে বেলারুশ। দেশটির বিশেষ বাহিনীর (Special Operations Forces) কমান্ডার কর্নেল আলিয়াকসান্দর ইলিউকেভিচ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভোয়েনটিভি (VoenTV) চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নতুন ৩৭তম পৃথক এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেড গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কর্মকর্তাদের নিয়োগ, সেনাসদস্যদের আহ্বান এবং একটি ব্যাটালিয়ন গঠন সম্পন্ন হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে আরও কয়েকটি ব্যাটালিয়ন, আর্টিলারি, বিমান প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা এবং যুদ্ধ সহায়ক ইউনিট গঠন করা হবে। ২০২৭ সালে ব্রিগেডটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গোমেল অঞ্চলে স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে।

নতুন এই ইউনিটটি বেলারুশের চতুর্থ এয়ার অ্যাসল্ট ব্রিগেড হবে। বর্তমানে দেশটির ১০৩তম ব্রিগেড ভিটেবস্কে, ৩৮তম ব্রিগেড ব্রেস্টে এবং ৫ম ব্রিগেড মিনস্কের কাছে মারইনা হোরকায় অবস্থান করছে।

Advertisement

দক্ষিণ সীমান্তকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বেলারুশ সরকার বলেছে, এ অঞ্চলের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতেই নতুন ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে।

এদিকে সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নও অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ফর সিকিউরিটি জানিয়েছে, গোমেল অঞ্চলে সামরিক গ্যারিসন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ইয়াকিমাউকা রেলস্টেশনের কাছে একটি নতুন প্রশিক্ষণ মাঠও নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত জুলাইয়ের শুরুতে ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, বেলারুশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও লজিস্টিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে। তবে সে সময় সেখানে উল্লেখযোগ্য সেনা সমাবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বারবার দাবি করে আসছেন, এসব মোতায়েন সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। তিনি বলেন, ইউক্রেন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতেই বিশেষ অভিযান বাহিনীকে মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতির জন্য নয়।

Advertisement

তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাশিয়া বেলারুশকে যুদ্ধে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে চাইছে যাতে ইউক্রেনকে উত্তর সীমান্তেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখতে বাধ্য করা যায়।

সূত্র: কমনস্পেস ডট ইইউ/ দ্য কিয়েভ পোস্ট

কেএম