ভালোবাসার সম্পর্কে কখনো কখনো এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়, যখন তা আর মেরামত করার মতো কিছু বাকি থাকেনা। তবুও ভালোবাসার টান আর বিভ্রান্তির কবলে পড়ে সম্পর্কের লাল সংকেতগুলো অনেকেই দেখতে পান না। ফলে তারা অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কটি বছরের পর বছর বয়ে বেড়ান।
Advertisement
সম্পর্কে মনোমালিন্য, কথা কাটাকাটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে অনেকসময় তিক্ততা বাড়তে বাড়তে কখন যে তা মাত্রা পার করে যায়, তা সম্পর্কে থাকা মানুষগুলো বুঝে উঠতে পারেন না। তাই খারাপ সম্পর্কে ধুকে ধুকে মরার চেয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
কিন্তু কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন? কীভাবে বুঝবেন যে বিচ্ছদ প্রয়োজন নাকি সম্মিলিত চেষ্টা? মিলিয়ে নিন লক্ষণ -
১. বারবার অসম্মান ও অবহেলাভালোবাসার মূলভিত্তি হলো সম্মান। যদি বারবার আপনার অনুভূতি, মতামত কিংবা ব্যক্তিত্বকে ছোট করা হয়, তবে সেটা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। যেসব সম্পর্কে নিয়মিত সঙ্গীর অবহেলা ও অসম্মান ঘটে, সেখানে মানসিক চাপ ও হতাশা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই যেখানে আপনি সম্মানিত বোধ করেন না, সে সম্পর্ক পরিত্যাগ করাই ভালো।
Advertisement
একটি সম্পর্কে স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি বিশ্বাসও অপরিহার্য। যদি আপনার সঙ্গী সবসময় আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান — বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, পোশাক পরা বা কাজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে না দেন — তাহলে এটি একটি স্পষ্ট লাল সঙ্কেত। এমন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে মানসিক নির্যাতনের দিকে গড়াতে পারে।
৩. সবসময় ঝগড়া, কিন্তু সমাধান নেইঝগড়া সম্পর্কের অংশ, তবে সমস্যার সমাধান ছাড়া বারবার একই জায়গায় আটকে থাকা সম্পর্ককে ক্ষয় করে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ঝগড়ার পর সমাধান খুঁজে পান না, তাদের বিচ্ছেদের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেশি।
৪. বিশ্বাস ভেঙে যাওয়াবিশ্বাস ভাঙলে সম্পর্ক টেকানো সবচেয়ে কঠিন হয়ে যায়। প্রতারণা, বারবার মিথ্যা বলা কিংবা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ — এসব আস্থার দেয়াল ভেঙে দেয়। তাই বিশ্বাসহীন সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে শুধু মানসিক যন্ত্রণাই বাড়ায়।
ফলে সঙ্গীকে সতর্ক করার পরেও যদি সে আপনার বিশ্বাস ভঙ্গ করে, বারবার মিথ্যা বলে, তাহলে ভালো করে ভেবে দেখুন সেই সম্পর্ক আদৌ আপনার জন্য ভালো কিনা।
Advertisement
এটাই সবচেয়ে স্পষ্ট ও বিপজ্জনক লাল সঙ্কেত। শারীরিক, মানসিক বা মৌখিক – নির্যাতন যে ধরনেরই হোক, এটি কখনো মেনে নেওয়া উচিত নয়। অনেক গবেষণা প্রমাণ করে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা দীর্ঘমেয়াদে ডিপ্রেশন, উদ্বেগ এবং আঘাতজনিত মানসিক চাপে ভোগেন।
প্রতিটি সম্পর্কেই ওঠানামা থাকে। তবে যদি আপনি বারবার কষ্ট পান, নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেন, কিংবা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন — তাহলে ভেবে দেখার সময় এসেছে। সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা তখনই মূল্যবান, যখন দুজনই চেষ্টা করেন। অন্যথায়, নিজেকে বাঁচিয়ে এগিয়ে যাওয়া হতে পারে সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ যুক্তরাষ্ট্র, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং
এএমপি/এমএস