জাতীয়

শিশুশ্রম বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও র‌্যালি করেছ বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)। কর্মসূচি থেকে শিশুশ্রম নির্মূলে জরুরি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Advertisement

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবার, রাষ্ট্র, নিয়োগকর্তা এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তারা শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে সরকার ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডাইফ) প্রতিনিধি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বিভিন্ন শ্রমিক ও মালিক সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম এখনো বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর সামাজিক ও মানবিক সমস্যা। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১৭ লাখ ৯০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছে, যা তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

Advertisement

বক্তারা উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম নির্মূলের অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

মানববন্ধনে স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়েজ হোসেন বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

আইবিসির সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে। শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

আইএলওর প্রতিনিধি নীরান রামজুথান বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

Advertisement

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে এক বছরের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

বিএলএফের নির্বাহী পরিচালক একেএম আশরাফ উদ্দীন বলেন, শিশুশ্রম এখনো বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবাধিকারগত চ্যালেঞ্জ।

আইএলও প্রতিনিধি সৈয়দা মনিরা সুলতানা বলেন, শিশুশ্রম নিরসনের সঙ্গে শোভন কর্মপরিবেশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বাবা-মায়ের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং ন্যায্য মজুরিভিত্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের শ্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বিএলএফের মহাসচিব জেড এম কামরুল আনাম বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে পরিবারকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

চাইল্ড লেবার ক্ল্যাপের সেক্রেটারি আফজাল কবির খান বলেন, শিশুশ্রম নিরসন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এজন্য সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিএলএফ ১ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুদের অধিকার সুরক্ষার পক্ষে জনমত গঠন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূলে সকল অংশীজনের অঙ্গীকার আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এমএএস/এমএএইচ/