সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, ওজন হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে - এই উপসর্গগুলো আমরা প্রায়ই ব্যস্ত জীবন, বয়স বা মানসিক চাপের ঘাড়ে চাপিয়ে দিই।
Advertisement
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে অনেক সময় দায়ী থাকে গলার ভেতরে থাকা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি - থাইরয়েড।
থাইরয়েড গ্রন্থিটি প্রজাপতির মতো দেখতে এবং এটি শরীরের বিপাক, শক্তি ব্যবহার, হার্টের গতি, তাপমাত্রা এমনকি মনের অবস্থাকেও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেই শরীর নানা অস্বস্তির মাধ্যমে তা জানান দিতে শুরু করে।
থাইরয়েড হরমোন বেশি হলে কী হয়?যখন থাইরয়েড স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হরমোন তৈরি করে, তখন শরীর যেন অতিরিক্ত গতিতে চলতে থাকে। এ অবস্থাকে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিজম। এতে অনেকেরই ওজন কমতে থাকে, যদিও খিদে স্বাভাবিক বা তার চেয়েও বেশি থাকে। হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘাম বেশি হওয়া, গরম সহ্য না হওয়া, ঘুমের সমস্যা বা অকারণে দুশ্চিন্তা বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
Advertisement
অনেক সময় হাতে কাঁপুনি, পেশি দুর্বলতা, পেটের গোলমাল বা নারীদের মাসিক চক্রে পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। গলার নিচের দিকে ফোলা ভাব বা গাঁট অনুভূত হলে সেটিও উপেক্ষা করা ঠিক নয়।
থাইরয়েড হরমোন কম হলে কী ঘটে?থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হলে শরীরের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়। একে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এ ক্ষেত্রে সারাক্ষণ ক্লান্তি, ঠান্ডা বেশি লাগা, ওজন বেড়ে যাওয়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকেই বলেন, মন যেন আগের মতো কাজ করছে না - ভুলে যাওয়া, মনোযোগে ঘাটতি বা মন খারাপ থাকার প্রবণতা বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখমণ্ডল বা চোখের চারপাশে ফোলা ভাবও এই সমস্যার পরিচিত লক্ষণ।
কেন অনেক সময় ধরা পড়ে না?থাইরয়েড সমস্যার বড় সমস্যা হলো, এর লক্ষণগুলো খুবই সাধারণ। ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তন বা মন খারাপ - এসব উপসর্গ আধুনিক জীবনে প্রায় সবারই থাকে। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষণ যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা একসঙ্গে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়, তখন পরীক্ষা করানো জরুরি।
Advertisement
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা জানা যায়। প্রয়োজনে আল্ট্রাসাউন্ড বা স্ক্যান করা হতে পারে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গলায় অস্বাভাবিক ফোলা বা গাঁট দেখা গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
থাইরয়েড সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনও বজায় রাখা যায়। তাই শরীরের সংকেতগুলোকে অবহেলা না করাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ওয়েবএমডি, মায়ো ক্লিনিক, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা
এএমপি/এমএস