বরগুনার সদর উপজেলায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু নিহত হয়েছেন। এছাড়া তাওহীদ নামে তার এক সহযোগী গুরুতর আহত হয়েছেন।
Advertisement
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চামিলি বাজার নামক এলাকায় প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটে। পরে একইদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালু নিহত হয়।
বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত কালুর নামে বরগুনা সদর থানায় ১৩ থেকে ১৪টি মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
Advertisement
আহত প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে কালু বাহিনীর বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল বাহিনীটির সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলে কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালুসহ কয়েকজন গোলাম মোস্তফার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা ইব্রাহিম হোসেন কালু ও তার সহযোগী তাওহীদকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইব্রাহিম হোসেন কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত তাওহীদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালুকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই সময় তার কাছে থাকা বিভিন্ন ধরনের দেশিও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও একটি ডাকাতি মামলায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। গত চারদিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং মাদকের ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন কালু। তার এ কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় ওই এলাকার প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে কালু বাহিনীর সদস্যরা কুপিয়ে জখম করেন।
Advertisement
তিনি আরও বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে কালু বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেন কালুসহ তাওহীদ নামে আরেক সদস্যকে গণপিটুনি দেয়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাদেরকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালুকে প্রাথমিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন।
নুরুল আহাদ অনিক/এনএইচআর