জাতীয় দলের হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে গোলের দেখা পাননি; কিন্তু তবুও তাকে নিয়ে চিন্তিত নন কোচ। কিলিয়ান এমবাপে নিজেও আশাবাদী দ্রুতই তার এই গোলখরা কেটে যাবে। ফ্রান্স জাতীয় দলের এই ফরোয়র্ড সেনেগালকে ‘একটি দুর্দান্ত দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আগামী ১৬ই জুন, মঙ্গলবার নিউইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দেশ মুখোমুখি হতে চলেছে।
Advertisement
গ্রুপ ‘আই’-এর এ ম্যাচের আগে জানা গেছে, ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ‘লায়ন্স অফ তেরাঙ্গা’ এবং ‘লে ব্লুস’ মাত্র একবার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া ২০০২ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে, টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া সেনেগাল তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলের এক ঐতিহাসিক জয়ে চমকে দিয়েছিল। এমবাপের মনের কোণে নিশ্চয়ই প্রতিশোধ নেওয়ার মনোবাসনা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রয়াত সেনেগাল মিডফিল্ডার পাপা বুবা দিওপ ৩০ মিনিটে খেলার একমাত্র গোলটি করেছিলেন। পেনাল্টি বক্সের ভেতরে বল দখলের লড়াইয়ের পর তিনি খুব কাছ থেকে বলটি জালে জড়িয়ে দেন। এই ফলাফলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে রয়ে গেছে। এটি ফ্রান্সের জন্য একটি বিপর্যয়কর টুর্নামেন্টের সূচনা করে, যেখানে তারা একটিও গোল না করে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছিল। অন্যদিকে, সেনেগাল অপ্রত্যাশিতভাবে কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে যায়। এই ইতিহাসই ম্যাচটিকে আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
এমবাপে ইতিহাসকে এক পাশে রেখে দুই দেশের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের অপেক্ষা করছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিশ্বকাপ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ভরপুর। আমরা আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলছি, আমি তো জানিই না যে তারা চ্যাম্পিয়ন কি না (হাসি), কারণ মরক্কোও খেলছে। আমরা এই বিতর্কে জড়াবো না (হাসি)।’
Advertisement
‘এভাবে শুরু করাটা দারুণ ব্যাপার। আমরা অস্বীকার করছি না যে ফ্রান্স ও সেনেগালের মধ্যে একটি ইতিহাস রয়েছে। আর সেই ইতিহাসই ম্যাচটিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে। এটা দারুণ হতে চলেছে।’
ফ্রান্স দলের কয়েকজন ফুটবলারের বেড়ে ওঠা সেনেগালে। আবার সেনেগাল দলেরও অনেকের জন্ম ফ্রান্সে। তাই দুই দলের এই লড়াই দেখতে সবাই উন্মুখ হয়ে আছে।
এমবাপে বলেন, ‘ফ্রান্সে ম্যাচটি রাত ৯টায়। বাচ্চারা তখনও ঘুমাতে যাবে না, তাই ভালোভাবে শুরু করাটা আমাদের ওপরই নির্ভর করছে। এটি আমাদের প্রাথমিক যেকোনো সংশয় দূর করতে সাহায্য করতে পারে। কারণ বেশ কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকবে। আমাদের মধ্যে নয়, তবে কিছু মানুষের মধ্যে। এই আবেগই আমাদের সেই ৩ পয়েন্টও এনে দেবে।’
ফ্রান্স ১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালে টুর্নামেন্ট জয়ের পাশাপাশি এবং ২০০৬ ও ২০২২ সালে ফাইনালে খেলেছে। অন্যদিকে, সেনেগাল আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং চারটি বিশ্বকাপে (২০০২, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬) খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
Advertisement
আরআর/আইএইচএস