ঢাকার প্রাণখ্যাত বুড়িগঙ্গা নদী দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারে নেওয়া হয়। কিন্তু বুড়িগঙ্গা রক্ষা পায়নি। উল্টো ধলেশ্বরী নদীও দূষিত হয়েছে। প্রায় ৯ বছর হতে চললেও শিল্পনগরীর সিইটিপি পুরো কার্যকর হয়নি। এলডব্লিউজি সনদ না পাওয়ায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চামড়া শিল্প নিয়ে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এমদাদুল হক তুহিনের তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের শেষ পর্ব আজ।
Advertisement
ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের চামড়া শিল্পের রপ্তানি আয় বাড়ছে না। ইউরোপসহ উন্নত দেশের বড় বাজার অধরাই থাকছে। ফলে রপ্তানি আয় ঘুরপাক খাচ্ছে একটি গণ্ডির ভেতর। এই সুযোগে কম দামে দেশের চামড়া কিনছে চীন। সেই চামড়াই তারা উন্নত দেশে বিক্রি করছে বেশি দামে। বিদেশ থেকে কিনে এনে সেই চামড়ায় তৈরি পণ্য রপ্তানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এসব হচ্ছে শুধু আন্তর্জাতিক একটি সনদ না থাকার কারণে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, বৈশ্বিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) এই সনদ অর্জন করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বড় ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা দেশের চামড়া এবং এই শিল্পের পণ্য কিনছেন না। চামড়া শিল্পের রপ্তানি আয়ে এখনো বড় বাধা এলডব্লিউজি সনদ।
সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরী, ছবি: জাগো নিউজ
Advertisement
এই সনদের অভাবে ব্যাপক সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পের রপ্তানি আয়ে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ শিল্পের রপ্তানি আয় গত কয়েক বছর ধরে ৯৪ থেকে ১২৪ কোটি মার্কিন ডলারের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের পর থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমছে। সর্বশেষ অর্থবছরে কিছু বাড়লেও তা ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ১০ কোটি মার্কিন ডলার কম। বিপরীতে বিদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি হচ্ছে।
আরও পড়ুনসিন্ডিকেটের কবলে চামড়া বাজার, হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা‘জীবনে আর কোনোদিন চামড়ার ব্যবসা করবো না’মিথ্যা বলে সাভারে নেওয়া হয়েছে, দাবি চামড়া ব্যবসায়ীদেরসিইটিপি নিয়ে যাদের দায় ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
দেশে এলডব্লিউজি সনদ পাওয়া ট্যানারি ৮টিদেশে সচল ট্যানারির সংখ্যা প্রায় ১৬০টি। এর মধ্যে সাভারে আছে ১৪৭-১৪৮টি। এই ট্যানারিগুলোর মধ্যে মাত্র আটটির এলডব্লিউজি সনদ রয়েছে। এগুলো হলো সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর পাইওনিয়ার সিমোনা ট্যানিং বিডি লিমিটেড (বে ট্যানারি), খুলনার সুপার এক্স, চট্টগ্রামের রিফ ট্যানারি, যশোরের এস এফ, গাজীপুরের শফিপুরের এপেক্স ট্যানারি, এবিসি ট্যানারি, অস্টান ও কুমিল্লার সংসিন লেদার (বিডি) লিমিটেড।
চামড়া পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ দেয় এলডব্লিউজি। এটি অনেকটা পোশাক খাতের সবুজ কারখানার লিড সনদের মতো। এলডব্লিউজি সনদ না থাকলে বিশ্বের বহু দেশে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা যায় না।
Advertisement
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরও বেশকিছু ট্যানারি এই সনদ পাওয়ার যোগ্য হলেও কেবল শিল্পনগরীর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) ঠিক না থাকায় ট্যানারিগুলো এ সনদের জন্য আবেদনই করতে পারছে না।
সাভারে ট্যানারির ওপেন ডাম্পিং ইয়ার্ডে রাখা কঠিন বর্জ্য, ছবি: জাগো নিউজ
কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না ট্যানারি মালিকরাবাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এলডব্লিউজি সনদ না থাকার কারণে ব্র্যান্ড বায়াররা বাংলাদেশে আসছে না। এই সনদ না থাকায় আমরা পণ্যের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছি না। কমপ্লায়েন্ট বায়ার বাংলাদেশে প্রায় একেবারেই নেই। নন-কমপ্লায়েন্ট বায়াররা অর্ধেক দামে চামড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছি।’
বিটিএর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমা ট্যানারির মালিক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এলডব্লিউজি সনদ না থাকায় বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সনদ না থাকলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ভালো ক্রেতারা সেই ট্যানারির পণ্য কেনেন না। ফলে আমরা উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশ করতে পারছি না। এ কারণেই বাড়ছে না রপ্তানি আয়।’
আরও পড়ুনচামড়ার ক্রেতা নেই, মাদরাসায় দেওয়াকেই উত্তম মনে করেন অনেকে‘কেউ কিনতে এলো না চামড়া, মাটিতে পুঁতে ফেলেছি’ক্রেতারা বলছেন চামড়ার ‘ভালো’ দাম দিচ্ছেন, অখুশি বিক্রেতারাচামড়া শিল্পে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি সম্ভব
ভিন্নমত বিসিকেরবাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই সনদের একটি ভূমিকা অবশ্যই আছে। চামড়ার মোট বাজারের প্রায় ২৪ থেকে ২৫ শতাংশে এলডব্লিউজি সনদ প্রয়োজন হয়। এর বাইরে গ্লোবাল লেদার মার্কেটে আরও বিভিন্ন সার্টিফিকেশন ও ক্রাইটেরিয়া রয়েছে, যেগুলো মার্কেটিংয়ের সুবিধা দেয়। কিন্তু আমরা ট্র্যাডিশনালি- ইউরোপ আর আমেরিকার মার্কেটে অভ্যস্ত। ওই মার্কেটগুলোর জন্য এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট একটা রিকোয়ারমেন্ট। কিন্তু মোট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলডব্লিউজি ছাড়াই হচ্ছে। এজন্যই আমরা বলি— বাজার ও পণ্যে বৈচিত্র্যকরণ ঘটাতে হবে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট পেলে সুবিধা হবে, রপ্তানি আয় বাড়বে—এটা ঠিক। কিন্তু এলডব্লিউজি না থাকলেই যে রপ্তানি করা যাবে না, বিষয়টা তেমন নয়। রপ্তানি কমার পেছনে এলডব্লিউজি একমাত্র বা পুরোপুরি ভূমিকা রাখছে—এরকমও নয়। তবে এই সনদের কিছু না কিছু ভূমিকা রয়েছে।’
ডাম্পিং ইয়ার্ডের উন্মুক্ত স্থানে রাখা কঠিন বর্জ্যে থাকা পানি চুইয়ে নদীতে পড়ছে। বর্ষাকালে এর চেয়ে বেশি বর্জ্য নদীতে পড়ে, ছবি: জাগো নিউজ
প্রায় একই ধরনের কথা বলেন লেদার ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (এলডিএফ) কো-অর্ডিনেশন টিমের সদস্য তাহেরুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইউরোপ বা আমেরিকার বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে আমাদের কোনো অফিসিয়াল ব্যবসা নেই, কারণ আমাদের চামড়া এলডব্লিউজি সার্টিফায়েড নয়। কিছু ছোট আনঅথোরাইজড ক্রেতা চামড়া নিয়ে নিজের দেশে প্রসেস করে সার্টিফিকেশন ম্যানেজ করে নেয়, কিন্তু সেটা অফিসিয়াল ট্রেড নয়।’
তাহেরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গ্লোবাল মার্কেটের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ এখন এলডব্লিউজি ডিপেন্ডেন্ট। এই মার্কেটে আমরা ঢুকতেই পারছি না। বাকি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মার্কেটেও আমাদের মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড না থাকায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। এখন আমাদের মূল বাজার চীন। তারা খুব কম দামে চামড়া নেয়, পরে আবার কোয়ালিটির অজুহাতে শেষ মুহূর্তে দাম আরও কমিয়ে দেয়। এতে ট্যানারিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ দেশের চামড়া শিল্পের উন্নয়নে এই সনদ অর্জন করতে হবে। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সনদ ছাড়া চামড়া রপ্তানি খুবই কঠিন। আমাদের চেষ্টা করা উচিত যাতে সব নিয়ম মেনে রপ্তানি করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘সার্টিফিকেশনটা যাতে আমরা করতে পারি, সেজন্য সরকারও সহায়তা দিতে পারে- যাতে আমাদের ট্যানারিগুলো এই সনদ পেতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রমান্বয়ে এসব বিষয়ে খুবই সেনসেটিভ। এটি না মানলে আগামীতে রপ্তানি মারাত্মকভাবে নেতিবাচক দিকে যাবে।’
সাভারে ট্যানারির সিইটিপিতে এভাবেই পানি পরিশোধন করা হয়, ছবি: জাগো নিউজ
বাড়ছে না চমড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানিচামড়া শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় উৎস। পোশাকের পরে রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এ খাতে প্রত্যক্ষভাবে ছয় লাখের বেশি মানুষ কর্মরত। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১১৪ কোটি মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছর ১০৩ দশমিক ৯২ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়। সর্বশেষ অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর চামড়া রপ্তানি মোট রপ্তানি আয়ের মাত্র ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের পর থেকে দেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আরও কমছে। সর্বশেষ অর্থবছরে কিছু বাড়লেও তা ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ১০ কোটি মার্কিন ডলার কম। তথ্য থেকে দেখা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর ১০৩ দশমিক ৯২ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছর ১১৭ দশমিক ৫৫ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছর ১২৪ দশমিক ৫২ কোটি এবং ২০২০-২১ অর্থবছর ৯৪ দশমিক ১৭ কোটি মার্কিন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
আরও পড়ুনকাঁচা চামড়া রপ্তানির শর্ত শিথিলশুধু ভারত-চীনে নয় ইউরোপেও চামড়া রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেরাজশাহীতে কোরবানির পশুর চামড়া নদীতেট্যানারি খাত ঘুরে দাঁড়াবে: শ্রম সচিব
এদিকে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে চামড়ার বাজার হবে ৬৯৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। কাঁচা চামড়া সরবরাহে বাংলাদেশের হিস্যা ৩ থেকে ৪ শতাংশ হলেও প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে হিস্যা মাত্র দশমিক ২৬ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে এক হাজার ২৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিএর চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, ‘২০১৬–১৭ অর্থবছরে শুধু চামড়া রপ্তানি ছিল প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এখন সেটা নেমে এসেছে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ মিলিয়ন ডলারে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মোট রপ্তানি এক সময় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ছিল। কিন্তু এখন সেই প্রবৃদ্ধি আর ধরে রাখা যাচ্ছে না।’
সাভারে ট্যানারিতে শোধন প্রক্রিয়া শেষে সিইটিপি থেকে পানি নদীতে পড়ছে। সেখানে তৈরি হয়েছে ফেনা। সেখানকার পানি কিছুটা লালচে, ছবি: জাগো নিউজ
বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজার যতোটা বড় করা দরকার ছিল, আমরা তা করতে পারিনি। চামড়ার ক্ষেত্রে আমাদের মার্কেট ডাইভার্সিফাইড হয়নি। চামড়ার বিকল্প হিসেবে এখন অনেক বিকল্প জিনিস এসেছে। এর বৈশ্বিক বাজারও খুব বড় হয়েছে সেটিও নয়। আর্টিফিসিয়াল লেদার ও রেক্সিনের মতো বিকল্প পণ্য আসায় চামড়ার বাজার এখন অনেকটা নিম্নমুখী।’
এ বিষয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চামড়া খুবই সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। আমাদের চামড়ার কোয়ালিটিও খুব ভালো। সারা পৃথিবীতেই চামড়ার বাজারে পরিবেশবান্ধবভাবে হয়েছে কি না, সব স্ট্যান্ডার্ড মেনে হয়েছে কি না, এটি কিন্তু অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সনদ ইস্যুতে সবাই আরও সজাগ হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথমেই সিইটিপি চালু হতে অনেক দিন সময় লাগলো। যখন চালু হলো- তখন দেখা গেলো এর ধারণক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক নেই। অনেকে রাতের বেলায় নদীতেও বর্জ্য ফেলছে। এগুলো কিন্তু আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা জানে। তারা এগুলো সব সময় আমাদের মূল বাজারগুলোতে প্রচার করছে। রপ্তানি আয়ে এসবের প্রভাব রয়েছে।’
এলডব্লিউজি সনদ পেতে প্রয়োজন ১৭১০ নম্বরএলডব্লিউজি সনদ দিতে ট্যানারি শিল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতকে মূল্যায়ন করা হয়। প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা স্কোর বা নম্বর রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সনদ পেতে ১ হাজার ৭১০ নম্বর অর্জন করতে হয়। খাতগুলোর মধ্যে সাব-কন্ট্রাক্টেড অপারেশনসে ১০০, সোশ্যাল অডিটে ৫০, অপারেটিং পারমিটে ১০০, প্রোডাকশন ডাটায় ১০০, ইনকামিং ট্রেসেবিলিটিতে ৫০, আউটগোয়িং ট্রেসেবিলিটিতে ৬০, এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ইএমএস) ১০০, আরএসএল, কমপ্লায়েন্স ও সিআরভিআইয়ে ১৫০, এনার্জি কনজাম্পশনে ১০০, ওয়াটার ইউসেজে ১০০, এয়ার অ্যান্ড নয়েজ এমিশনসে ১০০, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে ১৫০, এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্টে ১৫০, হেলথ অ্যান্ড সেফটি ও ইমার্জেন্সি প্ল্যান্সে ১৫০, কেমিক্যাল ম্যানেজমেন্টে ১৫০ ও অপারেশনস ম্যানেজমেন্টে ১০০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।
সাভারে ট্যানারির সিইটিপিতে পানি পরিশোধন হচ্ছে, ছবি: জাগো নিউজ
সনদ পেতে মূল বাধা কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাআন্তর্জাতিক এই সনদ পেতে মূল বাধা কঠিন ও তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এই দুই সূচকে ৩০০ নম্বর, যা সাভারের ট্যানারিগুলো অর্জন করতে পারছে না। কারণ শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর নয়। আর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও পরিবেশের মানদণ্ড মেনে করা হচ্ছে না। এই ট্যানারির তরল ও কঠিন- দুই ধরনের বর্জ্যই নদী ও পরিবেশ দূষণ করছে। আর বাকি ১৪১০ নম্বর পাওয়ার জন্যও সাভারের সবগুলো ট্যানারি এখনো প্রস্তুত নয়।
এই সনদ পেতে বাধা কোথায় জানতে চাইলে বিটিএর চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এলডব্লিউজি পেতে মূল বাধা হচ্ছে সিইটিপি। এটাই প্রধান বাধা। ইটিপির বাইরে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও লিকুইড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টও আছে।’
আরও পড়ুনসাভারের চামড়া শিল্পনগরী বেপজার কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনাট্যানারি শিল্প বেপজার অধীনে নেওয়া নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের উদ্বেগপোশাক-চামড়া রপ্তানিতে বাংলাদেশকে অংশীদার হিসেবে চায় মঙ্গোলিয়ামাত্র ২ বছরেই চামড়া শিল্পে বাজিমাত উদ্যোক্তা তাহমিনার
এক প্রশ্নের উত্তরে বিটিএর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘এই এলডব্লিউজি সনদ না পাওয়ার মূল কারণ ট্যানারি মালিকদের অনীহা নয়, বরং শিল্পনগরের সামগ্রিক কমপ্লায়েন্স ঘাটতি। বিশেষ করে সিইটিপি, সলিড ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং পরিবেশগত অবকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না হওয়ায় ট্যানারিগুলো এলডব্লিউজি সনদের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পারছে না। শিল্পনগরে সিইটিপি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ কার্যকর না হলে কোনো ট্যানারির পক্ষেই এলডব্লিউজি সনদ অর্জন করা সম্ভব নয়। এই অব্যবস্থাপনার কারণেই আজ চামড়াশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। রপ্তানিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।’
এ বিষয়ে লেদার ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (এলডিএফ) কো-অর্ডিনেশন টিমের সদস্য তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘এলডব্লিউজি সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল দুটি এক্সটার্নাল ফ্যাক্টর হলো ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট। সাভারের লেদার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এগুলো সেন্ট্রালি করার কথা থাকলেও এখনো কার্যকরভাবে স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চালু হয়নি। ফলে অডিট হলে এই দুই জায়গায় ট্যানারিগুলো নাম্বার পায় না ও এলডব্লিউজি পাওয়া সম্ভব হয় না।’
সাভারে ট্যানারির সিইটিপিতে এভাবেই পানি পরিশোধন করা হয়, ছবি: জাগো নিউজ
এই সনদ পেতে মালিকরা এখনো সেভাবে প্রস্তুত নন জানিয়ে তাহেরুল বলেন, ‘ধরুন সরকার যদি আজই ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও ইটিপি পুরোপুরি ঠিক করে দেয়, তারপরও প্রায় ৯৫ শতাংশ ট্যানারি সঙ্গে সঙ্গে এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট পাবে না। আমাদের স্টাডিতে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ছয়-সাতটি ট্যানারি আছে যারা তাৎক্ষণিকভাবে এলডব্লিউজি অর্জনের মতো প্রস্তুত।’
মালিকদের করণীয় প্রসঙ্গে এলডিএফ টিমের এই সদস্য বলেন, ‘এলডব্লিউজি না থাকলেও মালিকদের হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। অন্যান্য গ্লোবাল সার্টিফিকেশন যেমন সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বা এনভায়রনমেন্টাল আইএসও করলে একটি বেসিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে এলডব্লিউজি সনদ প্রাপ্তি অনেক সহজ করে দেবে।’
কেবল শিল্পনগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই সনদ পেতে প্রধান অন্তরায়- বিষয়টি পুরো মানতে নারাজ বিসিক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামও। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান বাধা শুধু সিইটিপি—এটা বলা যাবে না। মোটামুটি ১৭১০ মার্কের মধ্যে প্রায় ১৪০০ মার্ক ট্যানারি ও ট্যানারি মালিকদের বিষয়। বাকি অংশে সিইটিপি, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট আর ওভারঅল ম্যানেজমেন্টের বিষয়গুলো আসে। সেটিও মালিকদের ঠিক করতে হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এলডব্লিউজি সনদ পেতে ১৭১০ নম্বর প্রয়োজন। এরমধ্যে সিইটিপি ও সলিড ওয়েস্টে ১৫০ করে ৩০০ নম্বর। বাকি নম্বর পেতে ফ্যাক্টরিগুলোকেই কাজ করতে হয়। এর মধ্যে ট্যানারির কর্মীদের নিয়োগপত্র, শ্রম আইন, সোস্যাল কমপ্লায়েন্স, ফিডিং জোন, সেফটি, কেমিক্যাল হ্যাজার্ড ড্রেস, ইএমএস সার্টিফিকেট ও এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকতে হয়। দেশের অধিকাংশ ট্যানারিতে এসব করা হয় না। সিইটিইপি ও সলিড ওয়েস্টেজ ব্যবস্থাও দেশে এই সনদ পাওয়ার মতো গড়ে ওঠেনি।’
সাভারে ট্যানারির ভেতরের একটি ড্রেনে কালচে পানি, ছবি: জাগো নিউজ
বিটিএর চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ এসব বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘সনদ পেতে যে প্রস্তুতি দরকার, আমরা মোটামুটি ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ৮ থেকে ১০টা ট্যানারি প্রায় কমপ্লায়েন্সের কাছাকাছি আছে।’
কমপ্লায়েন্স না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘এখন ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস চলছে। কমপ্লায়েন্স একটা বড় ইনভেস্টমেন্ট। অনেক ট্যানারির ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল কমে গেছে। এ কারণে তারা এখন কমপ্লায়েন্সে ইনভেস্ট করতে পারছে না।’
সিইটিপিতে পরিবেশের মানদণ্ড মানার সক্ষমতা নেইকেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি শিল্পনগরীর তরল ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে। এরমধ্যে ট্যানারি থেকে নির্গত ক্রোমযুক্ত পানি ও সাধারণ পানি সিইটিপিতে এসে শোধন প্রক্রিয়া শেষে নদীতে নির্গত হয়। কঠিন বর্জ্যগুলো উন্মুক্ত স্থানে গড়ে তোলা ডাম্পিং ইয়ার্ড ও ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়। যেখান থেকে কঠিন বর্জ্য সরাসরি নদীতে গিয়েও পড়ে।
আরও পড়ুনচামড়ায় দেওয়া লবণে বিট লবণ তৈরিআগামী বছর চামড়া সংরক্ষণের আগ্রহ আরও বাড়বে: বাণিজ্য উপদেষ্টাচামড়া শিল্পের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি: প্রধান উপদেষ্টাচামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ
সর্বশেষ তথ্যমতে, গত আগস্টের পরিবেশের রিপোর্ট অনুযায়ী ক্রোম, পিএইচ এবং ওয়েল অ্যান্ড গ্রিজ পরিবেশের মানদণ্ডের মধ্যে ছিল। তবে টিএসএস ও বিওডি পরিবেশের মানদণ্ড থেকে বেশি ছিল। গত আগস্টে বিওডির মাত্রা পাওয়া গেছে ৩০৮। এর আদর্শিক মানমাত্রা মাত্র ৩০। এই সূচকে খুবই খারাপ অবস্থানে রয়েছে সিইটিপি। একইভাবে যেখানে টিএসএসের আদর্শিক মান ১০০, সেখানে গত আগস্টে ছিল ১৬২। এই সূচকেও ভালো অবস্থানে নেই ট্যানারি। একইভাবে ক্লোরাইডের মাত্রা ২ হাজার থাকার কথা থাকলেও সেখানে গত আগস্টে তা ছিল ৪ হাজার ১০০। এই সূচকেও বেশ খারাপ অবস্থানে সিইটিপি।
ঢাকা ট্যানারি এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. গোলাম শাহনেওয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে ওয়েল অ্যান্ড গ্রিজ পরিবেশের মানদণ্ড অনুযায়ী আছে। আগস্টে আমরা ক্রোমিয়াম লেভেল ১ দশমিক ৪৫ পেয়েছি। পিএইচ লেভেল ঠিক আছে। দু-তিনটি লেভেল ঠিক নেই। সেটি ঠিক করার জন্য আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। এক সময় কঠিন বর্জ্যের পুরোটাই বর্জ্য হিসেবে থাকতো। এখন এটি থেকে জিলেটিন ও শিল্প প্রোটিন তৈরি হচ্ছে। চামড়া কাটিং বর্জ্য হিসেবে থাকছে না। বেশ কিছু উদ্যোগ চলমান। এগুলো বাস্তবায়ন হলে এলডব্লিউজি সনদ পাওয়া সহজ হবে।’
সাভারে ট্যানারির সিইটিপিতে এভাবেই পানি পরিশোধন করা হয়, ছবি: জাগো নিউজ
সিইটিপির সীমাবদ্ধতাবিসিক সূত্রে জানা যায়, সিইটিপির ডিজাইনড ক্যাপাসিটি দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক এর প্রকৃত ক্ষমতা দৈনিক সর্বোচ্চ ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ঘনমিটার পাওয়া গেছে। এছাড়া সিইটিপির নকশায় কারিগরি ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় আরও কিছু মডিউলের অনুপস্থিতি রয়েছে। একইসঙ্গে সিইটিপি পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী তরল বর্জ্য পরিশোধনে সক্ষম নয়। ঈদুল আজহা পরবর্তী পিক সময়ে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার ঘনমিটার ইফ্লুয়েন্ট প্রবেশ করে, যা সিইটিপির ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। এর বাইরে আরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করেছে ২ ট্যানারিসাভারের চামড়া শিল্পনগরীর ছয়টি ট্যানারিকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের অনুমতি দেয় সরকার। মূলত সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে (সিইটিপি) তরল বর্জ্যের লোড কমাতেই সরকার এ অনুমতি দেয়। ছয়টির মধ্যে শুধু বে ট্যানারি ও সদর ট্যানারি নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করেছে। অনুমতি পেলেও এখনো ইটিপি স্থাপন করেনি এপেক্স ট্যানারি, বেঙ্গল লেদার কমপ্লেক্স, সামিনা ট্যানারি ও আঞ্জুমান ট্রেডিং। তবে সম্প্রতি এপেক্স ও সামিনা ট্যানারি তাদের নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে।
আরও পড়ুনচামড়া শিল্পের অগ্রগতিতে অন্তরায় ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’সরবরাহ কমায় চামড়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনিশ্চয়তাকোরবানির চামড়া সংগ্রহে তথ্য বিভ্রাট, নষ্ট ‘হাজার হাজার’সরকার-পাইকারের মাঝে পড়ে চিড়েচ্যাপ্টা চামড়া ব্যবসায়ীরা
কাঁচা চামড়ার কাটিং রপ্তানিতে ৭ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনকাঁচা চামড়ার কাটিং (র-কাটিং) রপ্তানির লক্ষ্যে সাত প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আঞ্জুমান ট্রেডিং কর্পোরেশন, আইয়ুব ব্রাদার্স ট্যানারি লিমিটেড, বেঙ্গল পেলি এক্সপোর্ট, এ এন এ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড, আনোয়ার লেদার কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ জেডব্লিউ এনিমেল প্রোটিন কো. লিমিটেড ও ফেনী প্রাইভেট ট্যানারি লিমিটেড।
শ্রম ইস্যুতে যা বলছেন ট্যানারির মালিক ও নেতারাসাভার শিল্পনগরীর সব ট্যানারিতে ন্যূনতম মজুরি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক ট্যানারিতে নিয়োগপত্রই দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বহু ট্যানারিতে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ পোশাকের ব্যবস্থাও নেই।
সাভারে ধলেশ্বরী নদীর পাশে ট্যানারির ওপেন ডাম্পিং ইয়ার্ডে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে, ছবি: জাগো নিউজ
আঞ্জুমান ট্রেডিং কর্পোরেশনের এমডি ও বিটিএর চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘ট্যানারি শিল্পের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। শ্রমিকদের সঙ্গে আমরা বসেছি, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। গ্রেড অনুযায়ী শ্রমিকরা যাতে বেতন পান ট্যানারির মালিকদের সে বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। নিয়োগপত্র আমরা দেই। নিয়োগপত্র ছাড়া তো আর বেতন-ভাতা হবে না। দু-চারটি ট্যানারি হয়তো নিয়োগপত্র দেয়নি।’
এ বিষয়ে বিটিএর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সালমা ট্যানারির মালিক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আমরা কাজ করছি। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী মজুরি বাস্তবায়ন করবো। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়। সে কারণে ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে সেটি বাস্তবায়ন করবো। ওই সময় থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে দুটি স্লটে ১০ হাজার করে দুই ধাপে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। বর্ধিত বেতনের ওই টাকা আমরা শ্রমিকদের দেবো। প্রক্রিয়ায় কিছু ঝামেলা থাকায় সেটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
‘অনেক ট্যানারিই নিয়োগপত্র দেয়। সবাই দেয় না, এটি ঠিক না।’
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে সাখাওয়াত উল্লাহ আরও বলেন, ‘হাজারীবাগে পরিবেশসম্মতভাবে কোনো কাজ হতো না। সেখানে পরিবেশের কোনো মানদণ্ড মানা হতো না। সাভারে পরিবেশের নানা মানদণ্ড মানা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের মানদণ্ডে আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটাবো।’
প্রথম পর্ব পড়ুন: সাভারের ট্যানারি বর্জ্য কেড়ে নিচ্ছে ধলেশ্বরীর প্রাণদ্বিতীয় পর্ব পড়ুন: পুরো কার্যকর নয় সিইটিপি, নিজস্ব ইটিপিতেও আগ্রহ কম
ইএইচটি/এমএমএআর/এমএফএ