মাত্র অফিসে রিজাইন লেটার জমা দিয়ে বাসায় ফিরছে রাকিব। আজ ভীষণ মন খারাপ। আবারও সেই বেকারত্বের জীবনযাপন শুরু। কীভাবে অন্য চাকরি জোগাড় করবে, তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায়। যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতো; সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়েই চাকরিটি ছাড়তে হলো।
Advertisement
সন্ধ্যা শেষ। রাত হতে চললো। শহরের যান্ত্রিক ভিড় যেন বাড়তে লাগলো। রাকিবের আজকাল কোলাহল ভালো লাগে না। নির্জন কোনো জায়গা খুঁজছে। যেখানে একা বসে নিজেকে কিছুক্ষণ সময় দেবে। পুরো চেহারায় হতাশার কালো মেঘ জমে আছে। শুধু ভাবছে, কী করবে? কীভাবে বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়াবে?
ভাবতে ভাবতে একটি বাগান খুঁজে পেলো। বাগানের আশপাশে কিছু বটগাছ। রাকিব সেখানে গিয়ে বসে। মুখে হাত দিয়ে শুধুই ভাবছে, এখন কী করবে? যখন কিছু ভেবে পাচ্ছিল না, তখন স্মার্টফোনটি হাতে নিয়ে ফেসবুকে ঢোকে। সেখানে দেখতে পায় পছন্দের মানুষটির হাসিমাখা প্রোফাইল। মেয়েটির নাম নীলা। খুব সুন্দর মিষ্টি মেয়ে।
রাকিবের যখন চাকরি ছিল; তখন থেকে বেশ পছন্দ করে আসছে। মাঝেমধ্যে মেয়েটির সাথে ইনবক্সে কথাও বলে। যদিও মেয়েটি তেমন বলে না। তবুও রাকিব মেয়েটিকে নিয়ে কল্পনায় পঞ্চমুখ! খুব ইচ্ছে, তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। কিন্তু কীভাবে জানাবে ভেবে পাচ্ছিল না।
Advertisement
এমন একটা খারাপ সময় যাচ্ছে, নীলাকে হয়তো আর জানাতে পারবে না। সব তো বিফলে গেল! বেকার যুবককে নীলা কি আদৌ বিয়ে করবে? কিংবা তার খারাপ সময়ে তাকে ভরসা করে পাশে থাকবে? এমনও তো হতে পারে, নীলা তার চাকরি আছে জানার পরও প্রস্তাবে রাজি হবে না। এসব ভাবছিল রাকিব। শুধু আফসোস করে যাচ্ছে।
ভাবতে ভাবতে নিউজফিড স্ক্রল করছিল রাকিব। হঠাৎ দেখলো আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন! দেখে মৃদু হাসলো। নিজেকে বোঝাতে লাগলো, ‘ভালোবাসার তো কোনো দিবস হয় না! প্রতিদিন পছন্দের মানুষকে ভালোবাসা যায় কোনো কারণ ছাড়া। আজ কি তবে নীলাকে বলবো ভালোবাসি?’
চিন্তা করতে করতেই নীলার ইনবক্সে যায়। বেশ সাহস করে লিখতে থাকে, ‘নীলা আপনাকে ভালোবাসি’। লিখতে গিয়ে হাত কাঁপছিল। জীবনের প্রথম কাউকে ভালোবাসি লিখছে সে। হঠাৎ করে রাকিবের কী যেন হলো! নীলাকে দিতে যাওয়া মেসেজটি মুছে দিলো। ভাবতে লাগলো, যাকে পাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলাম, তাকে ভালোবাসি বলার মতো যোগ্যতা হয়তো আর নেই!
অর্থের কাছে হেরে যায় সব! ভাগ্যের কাছে হেরে যায় জীবনের সব স্বপ্ন, কল্পনা। নীলার সাথে তার সেই কল্পনামাখা সম্পর্ক থাকুক। যদি সে এই মুহূর্তে রাকিবের পাশে থাকতো! এটা ভাবতেই রাকিবের দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। যার সময় খারাপ যায়, তার জীবন অপূর্ণতায় ঘিরে থাকে।
Advertisement
এসইউ