আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন - ঝগড়ার সময় বলা একটি বাঁকা কথা আপনার সন্তানের মনে কী ছাপ ফেলছে? হয়তো আপনি ভাবছেন - ও তো ছোট, কিছুই বুঝবে না। কিন্তু শিশুরা শোনে, দেখে এবং নীরবে শেখে। বাবা-মায়ের কথাবার্তা থেকেই তারা সম্পর্কের ভাষা শেখে।
Advertisement
যখন একটি শিশু তার বাবাকে মায়ের সঙ্গে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে দেখে, বা উল্টোটা ঘটে, তখন সে শুধু একটি ঝগড়া দেখে না - সে একটি ধারণা শিখে নেয়। তার মনে গেঁথে যায়, ভালোবাসা মানেই হয়তো রাগ, চিৎকার বা অপমানও হতে পারে।
গবেষণা বলছে, ঘনঘন পারিবারিক দ্বন্দ্ব শিশুদের ভেতরে বিভ্রান্তি, ভয় ও অনিরাপত্তা তৈরি করে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বাবা-মায়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন শিশুর আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তাবোধে ফাটল ধরেশিশুর পৃথিবী ছোট, তার নিরাপত্তা মানে তার পরিবার। যখন সে দেখে একজন অভিভাবক অন্যজনকে হেয় করছেন, তখন তার ভেতরের নিরাপত্তাবোধ কেঁপে ওঠে। সে ভাবতে শুরু করে - তাহলে কি সম্পর্ক মানেই অনিশ্চয়তা?
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতরের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ শিশুদের স্ট্রেস হরমোন বাড়াতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মনোযোগ, আচরণ ও সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।
শিশুরা যা দেখে, তাই শেখেআমরা প্রায়ই বলি - বাচ্চারা কথা শুনে না, দেখে শেখে। কথাটি সত্য। আপনি যদি রাগের মধ্যেও সম্মান বজায় রাখেন, ক্ষমা চান, বা মতভেদকে শান্তভাবে সামলান - শিশুও সেটাই শিখবে।
ইউনিসেফ বারবার বলছে, শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য ঘরে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা জরুরি। কারণ বাবা-মায়ের আচরণই তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কের নকশা হয়ে ওঠে।
মতভেদ থাকবে, কিন্তু ভাষা বদলানসম্পর্কে মতভেদ স্বাভাবিক। প্রশ্ন হলো - আপনি তা কীভাবে প্রকাশ করছেন? চিৎকার না করে কি বলা যায় না? অপমান না করে কি আপত্তি তোলা যায় না? কারণ শিশুর সামনে সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করা মানে শুধু সঙ্গীকে সম্মান দেওয়া নয়, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যকেও সুরক্ষা দেওয়া।
Advertisement
আপনার সন্তান আপনার কথার ভেতরেই তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সংজ্ঞা খুঁজে নেয়। তাই ঝগড়ার মুহূর্তেও মনে রাখুন - আপনার আচরণই তার পৃথিবীর প্রথম পাঠ্যবই।
সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ইউনিসেফ, জার্নাল অব ফ্যামিলি সাইকোলজি, হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/জেআইএম