লাইফস্টাইল

আপনার মধ্যে কি নারসিসিস্টের বৈশিষ্ট্য আছে? মিলিয়ে নিন

নিজেকে ভালোবাসা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তবে কখনও কখনও নিজের প্রতি অতিরিক্ত মুগ্ধতা বা নিজের গুরুত্বকে অন্যদের চেয়ে বেশি মনে করা একটি ভিন্ন মানসিক বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিতে পারে।

Advertisement

মনোবিজ্ঞানে এই প্রবণতাকে অনেক সময় নারসিসিজম বলা হয়। এটি সবসময় কোনো মানসিক রোগ নয়, তবে মাত্রা বেশি হলে তা সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক জীবনেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু আচরণ বা অভ্যাসের মাধ্যমে বোঝা যেতে পারে একজন মানুষের মধ্যে আত্মপ্রেমী বা নারসিসিস্টিক বৈশিষ্ট্য আছে কি না।

১. সব সময় নিজের গুরুত্ব বেশি মনে হওয়া

যদি কেউ সবসময় মনে করেন তিনি অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষ, তাহলে সেটি নারসিসিস্টিক প্রবণতার একটি লক্ষণ হতে পারে। এমন ব্যক্তিরা অনেক সময় নিজের সাফল্য বা ক্ষমতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখান।

২. প্রশংসা পাওয়ার প্রবল চাহিদা

প্রশংসা সবাই পছন্দ করেন। তবে কেউ যদি সব সময় অন্যদের কাছ থেকে স্বীকৃতি বা প্রশংসা প্রত্যাশা করেন এবং তা না পেলে বিরক্ত বা হতাশ হয়ে পড়েন, সেটিও একটি লক্ষণ হতে পারে।

Advertisement

৩. অন্যের অনুভূতি বোঝার ঘাটতি

নারসিসিস্টিক বৈশিষ্ট্য থাকলে মানুষ অনেক সময় অন্যের অনুভূতি বা দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার ক্ষেত্রে দুর্বল হন। তারা নিজের প্রয়োজন বা সুবিধাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

৪. সমালোচনা সহ্য করতে না পারা

সমালোচনা শুনলে স্বাভাবিকভাবে অস্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু কেউ যদি সামান্য সমালোচনাতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান বা রাগান্বিত হয়ে পড়েন, তাহলে সেটি আত্মকেন্দ্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

৫. সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

কিছু মানুষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত নিজের মতো করতে চান। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া বা সম্পর্ককে নিজের সুবিধামতো পরিচালনা করার প্রবণতাও নারসিসিস্টিক আচরণের অংশ হতে পারে।

সব আত্মপ্রেম কি সমস্যার?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, হালকা মাত্রার আত্মপ্রেম অনেক সময় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এটি অন্যদের অবমূল্যায়ন করা, সহানুভূতির অভাব বা সম্পর্কের সমস্যা তৈরি করে, তখন সেটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

Advertisement

যদি কেউ মনে করেন এই ধরনের আচরণ তার সম্পর্ক বা সামাজিক জীবনে সমস্যা তৈরি করছে, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।

নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া মানসিক সুস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই সময় নিয়ে নিজের অভ্যাস ও আচরণগুলো নিয়ে ভাবা অনেক সময় আমাদের আরও পরিণত ও সহানুভূতিশীল মানুষ হতে সাহায্য করে।

সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিজঅর্ডারস, সাইকোলজি টুডে

এএমপি/এমএস