রমজানের শেষভাগে এসে ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকেই। নতুন পোশাক কেনা, ঘর গোছানো, বাজার করা, রান্নার প্রস্তুতি সব মিলিয়ে এই সময়টায় ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন থাকা খুবই জরুরি। কারণ সামান্য অসাবধানতা ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিতে পারে।
Advertisement
ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা দিয়েছেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক।
ছবি: ডা. সাকিয়া হক
পর্যাপ্ত পানি পান করুনরমজানের শেষভাগে অনেক সময়ই ক্লান্তি, দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই জরুরি। এতে শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা কমে। শুধু পানি নয়, ফলের রস, ডাবের পানি কিংবা লেবুর শরবতও শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
Advertisement
ইফতারের সময় অনেকেই অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার খেয়ে থাকেন। পিয়াজু, বেগুনি, সমুচা, চপসহ নানা ধরনের তেলে ভাজা খাবার বেশি খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক বা বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। ইফতারে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা উচিত। ভাজাপোড়া খাবারের পাশাপাশি ফল, সালাদ ও হালকা খাবার রাখা ভালো। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এবং রোজার সময় ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুনরমজানের সময় অনেকের ঘুমের সময়সূচি বদলে যায়। রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং ভোরে সেহরির জন্য ওঠার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই রাতে যতটা সম্ভব নিয়ম মেনে ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। প্রয়োজনে দিনের বেলায় অল্প সময় বিশ্রাম নিলেও শরীর কিছুটা সতেজ থাকে।
অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুনঈদ সামনে রেখে অনেকেই কেনাকাটা, ঘর গোছানো বা নানা কাজে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে ফেলেন। এতে শরীরে ক্লান্তি বা অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। রোজা রেখে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত নয়। কাজের মধ্যে বিরতি নিয়ে বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা বয়স্ক বা দীর্ঘদিনের কোনো রোগে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ঈদ সতর্কতা ভ্রমণের সময় যেসব ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত ঈদ প্রস্তুতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করুনঅনেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগে থাকেন। রমজানের সময় অনেকেই নিয়মিত ওষুধ গ্রহণে অবহেলা করেন। যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করা উচিত। প্রয়োজনে রোজার সময় ওষুধ খাওয়ার সময়সূচি চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নেওয়া ভালো।
Advertisement
সবশেষে ডা. সাকিয়া হক বলেন, রমজানের শেষভাগে শরীরের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ঈদের আনন্দ আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করা সম্ভব। তাই ঈদের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া জরুরি। এতে করে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যাবে নির্ভার ও সুস্থভাবে।
জেএস/