তরমুজ খাওয়ার পর খোসাটা সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলে দেন? এই অভ্যাসটা আমাদের প্রায় সবারই। কিন্তু একটু সচেতন হলে বুঝবেন, যেটিকে আমরা অপ্রয়োজনীয় ভাবছি, সেটিই হতে পারে দারুণ উপকারী একটি খাদ্য উপাদান।
Advertisement
তরমুজের খোসা আসলে পুষ্টিতে ভরপুর। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, বি৬, পটাশিয়াম এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো অ্যাসিড। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে এটি হৃদযন্ত্র ভালো রাখা থেকে শুরু করে হজমে সহায়তা, এমনকি ত্বকের যত্নেও ভূমিকা রাখে। স্মুদি, আচার, সালাদ কিংবা তরকারি, বিভিন্নভাবে এটি খাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তরমুজের খোসার উপকারিতা সম্পর্কে।
ফাইবারের ভালো উৎসতরমুজের খোসায় রয়েছে প্রচুর অদ্রবণীয় ফাইবার, যা হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে সহজ একটি প্রাকৃতিক উপায়।
সিট্রুলিনে সমৃদ্ধখোসার সাদা অংশে লাল শাঁসের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি সিট্রুলিন থাকে। এই উপাদান রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরচর্চার পর পেশীর ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। তাই ব্যায়ামপ্রেমী বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
Advertisement
তরমুজের খোসা ভিটামিন এ ও সি-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বককে সুস্থ রাখে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীরের ভেতরকার ক্ষতিকর উপাদান মোকাবেলায় এটি সহায়ক।
হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারীখোসায় থাকা সিট্রুলিন শরীরে আর্জিনিনে রূপ নেয়, যা রক্তনালীর কার্যকারিতা উন্নত করে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমে। নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধতরমুজের খোসায় ক্লোরোফিল ও লাইকোপিনের মতো উপকারী যৌগ রয়েছে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকা জরুরি, এক্ষেত্রে তরমুজের খোসা হতে পারে সহজ একটি উৎস।
তাই এবার তরমুজ খাওয়ার পর খোসাটি ফেলে দেওয়ার আগে আরেকবার ভাবুন। সামান্য সচেতনতা আপনার খাদ্যাভ্যাসকে আরও পুষ্টিকর করে তুলতে পারে।
Advertisement
তথ্যসূত্র: ভেরি ওয়েল হেলথ
জেএস/