তীব্র গরমে যখন বাইরে বের হওয়াই যেন এক ধরনের চ্যালেঞ্জ, তখনই পহেলা বৈশাখের উৎসবে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। ফলাফল, ত্বকে দেখা দিয়েছে রোদে পোড়া দাগ বা ট্যান। এতে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে মুখটা হয়ে ওঠে ক্লান্ত ও নিস্তেজ।
Advertisement
তবে চিন্তার কিছু নেই। নিয়মিত যত্ন এবং কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে এই ট্যান ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। প্রাকৃতিক উপাদানের সঠিক ব্যবহার ত্বককে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ত্বককে নতুন করে রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করা। কারণ অতিরিক্ত রোদে গেলে ট্যান আরও গাঢ় হতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২-৩ দিন হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর হয়, যা ট্যান কমাতে সহায়ক।
দই ও লেবুর রসের প্যাকট্যান দূর করতে দই ও লেবুর রস বেশ কার্যকর একটি সংমিশ্রণ। সমান পরিমাণ দই ও লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দই ত্বক ঠান্ডা রাখে এবং লেবুর রস ত্বক পরিষ্কার করে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
Advertisement
শসা ত্বককে শীতল রাখে আর মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একটি শসা ব্লেন্ড করে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে ত্বক সতেজ ও কোমল অনুভূত হবে।
পেঁপে ও মধুর প্যাকপাকা পেঁপে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কার্যকর। পেঁপে ম্যাশ করে তাতে মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। নিয়মিত ব্যবহারে দাগ হালকা হয় এবং ত্বক নরম থাকে।
অ্যালোভেরা ও দইঅ্যালোভেরা জেল ত্বকের জ্বালা কমাতে এবং ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা আরও বাড়ে। এই মিশ্রণ ত্বকে আরাম দেয় এবং ট্যান কমাতে সহায়ক।
আলু ও লেবুর রসআলুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। একটি আলু থেকে রস বের করে তাতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে কালচে দাগ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের ক্ষতি না করেই ধীরে ধীরে ট্যান কমাতে পারে। তবে যেকোনো কিছু ব্যবহার করার আগে ত্বকে অ্যালার্জি আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। নিয়মিত যত্ন, সঠিক পদ্ধতি এবং ধৈর্য এই তিনের সমন্বয়েই বৈশাখের তীব্র রোদে হারিয়ে যাওয়া ত্বকের উজ্জ্বলতা আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব।
জেএস/