আইন-আদালত

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সালেহীন কারাগারে

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স’-এর শিক্ষক সালেহীন মাহবুবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ১৬ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রৌনক জাহান তাকি এ আদেশ দেন।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে জাবিন তাসনিম লামিয়ার সঙ্গে সালেহীন মাহবুবের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই অভিযুক্ত সালেহীন এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে লামিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গুলশানের বাসায় সালেহীন মাহবুব শ্বশুরবাড়ি থেকে ১২ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য লামিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। লামিয়া এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে গুলশান থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী জাবিন তাসনিম লামিয়া বাদী হয়ে গুলশান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-২৮) দায়ের করেন।

আজ আসামি সালেহীন মাহবুবকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী, অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক মিলন এবং অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জুয়েলসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং জেলা জজ আদালতের পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা।

Advertisement

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমডিএএ/ইএ