দেশজুড়ে

নোটিশেই পার ১১ বছর, অধিগ্রহণের জালে আটকা ৩৬ ভূমিমালিক

পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ দুই দশক। তবে আজও সম্পন্ন হয়নি মাগুরার আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের জন্য ঘোষিত ২০ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম। এতে বেকায়দায় পড়েছেন ভূমির মালিকরা। তারা নিজেদের প্রয়োজনে জমি বেচাকেনা বা হস্তান্তর করতে পারছেন না।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭’ অনুযায়ী নোটিশ জারির পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নোটিশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণ শেষ করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। তবে মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ আইন মানা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা মসলা গবেষণা কেন্দ্রটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময় বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মৌলিক গবেষণা প্রকল্প সম্প্রসারণের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দেয়। ২০০৬ সালে মসলা গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রসারণের জন্য পৌরসভার দুটি মৌজায় ২০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীকালে তা থেমে যায়। এরপর নানা মহলের চিঠিপত্রের আদান-প্রদানের পর ২০১৫ সালে ভূমি মালিকদের নোটিশ জারি করা হয়।

অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমি/ছবি-জাগো নিউজ

Advertisement

নোটিশ অনুযায়ী ৩৬ জন ভূমি মালিকের জমি অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অথচ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

‘অধিগ্রহণের নোটিশ জারি হওয়ার পর থেকে নিজেদের জন্য একটা স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করতে পারছি না। দীর্ঘমেয়াদি কৃষিতে বিনিয়োগ করাও অনিশ্চিত। ভুক্তভোগীদের এভাবে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে সরকার নিজেই আইন লঙ্ঘন করছে’—ভূমিমালিক

এ দীর্ঘসূত্রতায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভূমি মালিকরা। দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে—এমন আশ্বাসে অনেক ভূমি মালিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা দিয়েছেন। আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: সুনীলের সুগন্ধি মরিচ, বছরে গড়ে আয় ৮ লাখপতিত জমিতে হলুদ চাষে সফল শ্যামল, দেড় লাখ টাকা লাভের আশাল্যাবেই বন্দি উদ্ভাবন, প্রয়োগ নেই মাঠেমসলা চাষে প্রযুক্তির ছোঁয়া, বদলে যাচ্ছে কৃষির চিত্র

Advertisement

জামান আলী নামের একজন ভূমি মালিক অভিযোগ করে বলেন, ‌‘অধিগ্রহণের নোটিশ জারি হওয়ার পর থেকে নিজেদের জন্য একটা স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করতে পারছি না। দীর্ঘমেয়াদি কৃষিতে বিনিয়োগ করাও অনিশ্চিত। ভুক্তভোগীদের এভাবে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে সরকার নিজেই আইন লঙ্ঘন করছে।’

ভূমি মালিক আব্দুল খালেক বলেন, ‘নিজেদের প্রয়োজনে জমি কেনাবেচা বা হস্তান্তর করতে পারছি না। সরকার যেন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে, নইলে ঘোষণাটি বাতিল করে। জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা পূর্ণ স্বাধীনতা চাই।’

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ভূমি মালিক জানান, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণের আশ্বাস দিয়ে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান।

এ বিষয়ে ড. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমি/ছবি-জাগো নিউজ

বর্তমান প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, তিনি ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিকল্পনা শাখার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছেন। তিনি আশা করেন, নতুন সরকার অধিগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

ভূমি মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে মৌখিকভাবে কিছু শুনেছেন বলেও জানান তিনি।

আশরাফুল আলম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

এসআর/এএসএম