স্বনামধন্য ট্রেডিং কোম্পানির লোগো ও নাম নকল করে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) মিরপুর থানার কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। গ্রেফতার যুবকের নাম মো. তাজুল ইসলাম (৩১)।
জসীম উদ্দিন বলেন, স্বনামধন্য ট্রেডিং কোম্পানির লোগো ও নাম নকল করে হোয়াটস অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি।
তিনি বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে প্রচারিত একটি লোভনীয় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি। প্রতারকরা বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সফটওয়্যারের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে নিশ্চিত মুনাফার প্রলোভন দেখায়। পরে ভুক্তভোগীকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে প্রথমে স্বল্প বিনিয়োগে লাভ প্রদর্শনের মাধ্যমে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে।
Advertisement
জসীম উদ্দিন আরও বলেন, প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাদীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭ টাকা আত্মসাৎ করে। সর্বশেষে বড় অংকের শেয়ার বরাদ্দের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী মোহাম্মদপুর থানার মামলা করেন। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রতারক চক্রটি ভুয়া অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে আসছিল। গ্রেফতার তাজুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে চক্রটিকে সরবরাহ করতো। পরে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্যবহার করে চক্রটি প্রতারণার অর্থের লেনদেন সম্পন্ন করতো।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। প্রতারণার অর্থ তার নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও স্থানান্তরের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। তাজুল ইসলামকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
কেআর/এমএমকে
Advertisement