জাতীয়

বিদ্যুৎ সংকটে নাজেহাল গ্রামাঞ্চল, গরমে হাঁসফাঁস মানুষ

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ বেড়েছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শহরের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামের মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও চার থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত টানা লোডশেডিং হচ্ছে। তীব্র গরমে ঘরে থাকা দুঃসহ হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা উঠানে রাত কাটাচ্ছেন।

গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে গ্রামগুলোতে ইচ্ছা করে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। এর ফলে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় নলকূপ চালানো, সেচ কার্যক্রম, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দৈনন্দিন কাজকর্মেও ব্যাঘাত ঘটছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’র তথ্য বলছে, ১৬ এপ্রিল ডে পিক (দুপুর ১২টা) লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৭৫১ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা পিক (রাত ৯টা) লোডশেডিং ছিল ৪৮১ মেগাওয়াট।

Advertisement

এছাড়া ১৫ এপ্রিল ডে পিক লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২৯৪ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা পিক লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৪২৮ মেগাওয়াট। ১৪ এপ্রিল ডে পিক লোডশেডিং ছিল ৫৮০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা পিক লোডশেডিং ছিল ৬৮৮ মেগাওয়াট। ১৩ এপ্রিল ডে পিক লোডশেডিং ছিল ৮৭৯ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা পিক লোডশেডিং ছিল ১০০৮ মেগাওয়াট। ১২ এপ্রিল ডে পিক লোডশেডিং ছিল ৪১১ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা পিক লোডশেডিং ছিল ৯১০ মেগাওয়াট।

যশোরের বাসিন্দা শাহিনুর বলেন, আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসে, আবার চলে যায়। দুই ঘণ্টা পর আবার আসে। এত গরমে ফ্যান না চললে ঘরে থাকা যায় না। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। অনেক কষ্টে আছি।

মাগুরার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, বিদ্যুতের কথা বলে লাভ নেই। আসে আর যায়। এত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে, বলার মতো নয়। গরমে বেশি কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। কবে ঠিক হবে, জানি না।

ঝিনাইদাহের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, এত গরম পড়তেছে, এর মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। বাচ্চারা ঘুমাতে পারে না, শুধু কান্না করে। যুবক-বৃদ্ধ সবাই কষ্ট পাচ্ছে। আগে এত লোডশেডিং ছিলো না। হঠাৎ করে কয়েকদিন বেড়েছে।

Advertisement

কুমিল্লার বাসিন্দা আকরাম বলেন, বিদ্যুৎ থাকে না। আসে আর যায়। আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকে। মিল (ছোট কারখানা) চালাতে পারি না। মেশিন চালু আর বন্ধ করার মধ্যেই থাকতে হয়।

পিরোজপুরের বাসিন্দা তৌকির আহমেদ বলেন, আমাদের এখানেও লোডশেডিং হচ্ছে। কষ্টের কথা কী বলব, বললেও তো আর বিদ্যুৎ পাব না। বিদ্যুৎ না থাকলে কষ্টের শেষ নেই। সামনে আরও গরম পড়লে তখনও যদি এই অবস্থা থাকে, কী হবে জানি না।

এনএস/কেএএ/