বিনোদন

‘মন খারাপ করে ভেবেছি, আমি কি সন্তানদের বাবাকে বিক্রি করেছি’

নিজের লেখা বই প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানিয়ে আবেগঘন এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সাবেক স্ত্রী গুলতেকিন খান। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত স্মৃতি, পারিবারিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং মানসিক কষ্টের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

Advertisement

ফেসবুক পোস্টে গুলতেকিন খান জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তিন মাস অবস্থানকালে তিনি ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। সেগুলো পাঠকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করলে এক ঘনিষ্ঠ প্রকাশক সেগুলো বই আকারে প্রকাশের প্রস্তাব দেন।

তিনি লেখেন, পরিবার-মা-বাবা, ভাই-বোন, সন্তান এবং দাদা প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার লেখালেখির শুরু। দীর্ঘ ২৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের অভিজ্ঞতাও সেখানে উঠে আসে, যেখানে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গের নানা স্মৃতি ও ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে তিনি জানান, একটি লেখায় সাবেক স্বামীকে নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। এর মধ্যে কিছু মন্তব্য তাকে গভীরভাবে আঘাত করে।

Advertisement

সবচেয়ে কষ্টের মন্তব্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- “আর কতদিন বাবাকে বিক্রি করে খাবেন?” এই মন্তব্য তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় বলে জানান গুলতেকিন খান। তিনি আরও লেখেন, মন খারাপ করে ভেবেছেন, তিনি কি সন্তানদের বাবাকে বিক্রি করেছেন কি না।

পরবর্তীতে প্রকাশকের সঙ্গে আলোচনায় বইটির নামও ঠিক করেছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বইটির নাম নির্ধারণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তবে সামাজিক প্রতিক্রিয়া, পরিবারের পরামর্শ এবং নিজের উপলব্ধি থেকে শেষ পর্যন্ত বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেন গুলতেকিন খান। এ ক্ষেত্রে তার ছেলে নুহাশ হুমায়ূনের পরামর্শও ভূমিকা রাখে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

তিনি লেখেন, পাঠকের ভালোবাসা ও আবেগকে সম্মান জানিয়ে এবং কারও মনে আঘাত না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই তিনি বই প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:শিল্পীদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি দিলেন মিশা স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন হানিফ সংকেত 

সবশেষে গুলতেকিন খান জানান, অতীতের সব কষ্ট তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং সন্তানদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

এমএমএফ