আন্তর্জাতিক

কার্যকর জ্বালানি কৌশলে সুভিধাজনক অবস্থানে চীন

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের কারণে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সামাল দিচ্ছে চীন—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

Advertisement

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি হলেও দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

চীন বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ, এবং এর অর্ধেকের বেশি সমুদ্রপথে আসা অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্যকরণ ও মজুত গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চীনকে এই সংকটে এগিয়ে রেখেছে।

Advertisement

বিশ্লেষক ম্যাইউ ঝু বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে চীন আগেই বড় আকারে কৌশলগত তেল মজুত গড়ে তুলেছে।

এর ফলে জাপান ও ফিলিপাইনের মতো অনেক এশীয় দেশের তুলনায় চীন ভালো অবস্থানে রয়েছে।

চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগও বড় ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষক ল্যারু ম্যালভিটরা বলেন, বায়ু, সৌর ও পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের ফলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমেছে।

Advertisement

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এরই মধ্যে নতুন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।

২০২৫ সালের মে মাসে চীন প্রায় ৯৩ গিগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করেছে, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০টি সোলার প্যানেল স্থাপনের সমান। একই সময়ে বায়ু বিদ্যুৎ স্থাপন হয়েছে ২৬ গিগাওয়াট, যা প্রায় ৫ হাজার ৩০০টি টারবাইনের সমতুল্য।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চীন ১৯৮ গিগাওয়াট সৌর এবং ৪৬ গিগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ যোগ করেছে। এই সক্ষমতা ইন্দোনেশিয়া বা তুরস্কের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এতে দেশটির মোট সৌর বিদ্যুৎ সক্ষমতা এক হাজার গিগাওয়াট ছাড়িয়েছে, যা বিশ্ব মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম