লাইফস্টাইল

ইমিউনিটি বাড়ানো পানীয় কি আসলেই কাজ করে?

আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং নানা ধরনের ক্ষতিকর জীবাণুর আক্রমণের মুখোমুখি হয়। এই সব আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করে, যাকে বলা হয় ইমিউন সিস্টেম। এটি শরীরের ‘ডিফেন্স লাইন’ হিসেবে কাজ করে এবং আমাদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisement

ইমিউন সিস্টেম কোনো একক অঙ্গ নয়, বরং এটি একটি জটিল নেটওয়ার্ক, যেখানে রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা, লিম্ফ নোড, অ্যান্টিবডি এবং বিভিন্ন অঙ্গ একসঙ্গে কাজ করে। এরা একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর জীবাণুকে শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে।

কেন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়

বর্তমান জীবনযাত্রায় নানা কারণে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এর অন্যতম প্রধান কারণ। যখন আমরা পুষ্টিকর খাবারের বদলে অতিরিক্ত প্রসেসড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি গ্রহণ করি, তখন শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে।

এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও ইমিউন সিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। কিন্তু নিয়মিত কম ঘুম হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে শরীর সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

Advertisement

অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে ও ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রেসে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একইভাবে দূষিত পরিবেশে বসবাস করাও শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে।

ইমিউনিটি বুস্টার নিয়ে প্রচলিত ধারণা

বর্তমানে সামাজিক মাধ্যম ও ইন্টারনেটে ইমিউনিটি বুস্টার ড্রিংক, সুপার জুস বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে অনেক প্রচারণা দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এসব পানীয় বা ক্যাপসুল দ্রুত ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইমিউনিটি এমন কোনো জিনিস নয় যা এক বা দুই দিনে বাড়ানো যায়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা পুরো জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে।

হলুদ দুধ ও ঘরোয়া প্রতিকার

ঘরোয়া চিকিৎসায় হলুদ দুধ অনেক জনপ্রিয়। হলুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ রয়েছে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনেক সময় কালো গোলমরিচের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে কারকিউমিনের শোষণ কিছুটা বাড়তে পারে।

ইমিউনিটি জুস ও ফলমূলের ভূমিকা

অনেকেই আমলকী, বিট, লাউ বা করলার জুস পান করেন ইমিউনিটি বুস্টার হিসেবে। এসব ফল ও সবজিতে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে আমলকী ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উৎস। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, জুসের তুলনায় পুরো ফল বা সবজি খাওয়া বেশি উপকারী, কারণ এতে থাকা ফাইবার হজম এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisement

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট কতটা কার্যকর

ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি এবং জিঙ্ক ইমিউন সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু শরীরে যদি এগুলোর ঘাটতি না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট সাধারণত অতিরিক্ত উপকার দেয় না। বরং অতিরিক্ত গ্রহণে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন-ভিটামিন সি বেশি হলে পেটের সমস্যা, জিঙ্ক বেশি হলে কপার শোষণে বাধা এবং ভিটামিন ডি অতিরিক্ত হলে ক্যালসিয়াম ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: গরমে কি রাগ বেড়ে যায়? হিট-রিলেটেড অ্যাগ্রেশন নিয়ে যা জানা জরুরি জানেন কি দ্রুত খাওয়া মানুষের ওজন বাড়ার ঝুঁকি বেশি  ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখার উপায়

ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি স্বাস্থ্যকর ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন গড়ে তোলা। প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে কার্যকর রাখে। নিয়মিত কম ঘুম হলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম বা যেকোনো শারীরিক কার্যকলাপ রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে। এই অভ্যাসগুলো শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।

সূত্র: দ্য মেডিকেল নিউজ, ইন্ডিয়া টুডে

এসএকেওয়াই