যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতারের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধ সাজিয়ে গুলি করার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শুরু হয়েছে।
Advertisement
সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলায় অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামিপক্ষের আবেদন খারিজ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১ জুন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হলো।
মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।
আজ অভিযোগ গঠন উপলক্ষ্যে গ্রেফতার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।
Advertisement
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৬ সালে চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। পরে ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা এলাকায় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে পরিচয় জানার পর তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী দুজনকে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন রাতে তাদের চোখ বেঁধে অন্য স্থানে নিয়ে দুই হাঁটুতে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তবে বন্দুকযুদ্ধে গুলি হয়েছে উল্লেখ করে পরে আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠান আদালত।
ঘটনাটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখছে প্রসিকিউশন। কারণ ওই সময় শুধু এ দুজনকেই গুলি করা হয়নি, সারা বাংলাদেশেই বিরোধী রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের গ্রেফতারের পর কারও হাঁটুতে, কারও হাতে কিংবা শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে বিকলাঙ্গ করা হতো। এটা বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিপীড়নেরই অংশ ছিল। তাই চৌগাছার ঘটনাটি ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এফএইচ/একিউএফ
Advertisement