খেলাধুলা

গরমের মধ্যেও নাহিদ রানার এত গতির বল দেখে বিস্মিত কিউই ব্যাটার

নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ইনিংসের অষ্টম ওভার। তরুণ পেসার নাহিদ রানার হাতের প্রথম ডেলিভারিটি যখন ১৪৪.৭ কিমি বেগে আছড়ে পড়ল, ব্যাটার হেনরি নিকোলস কিছু বুঝে ওঠার আগেও সেটি আঘাত করলো তার পায়ে। এরপর একে একে আরও ৪ ব্যাটার শিকার হলেন বাংলাদেশের ২৩ বছর বয়সী এই পেসারের।

Advertisement

বলা যায়, একাই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজে সমতায় ফেরান নাহিদ রানা। ম্যাচ শেষে রানার এমন গতি দেখে নিজেদের বিস্ময় লুকাননি নিউজিল্যান্ড ব্যাটার নাথান কেলি।

সোমবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইনিংসের প্রথম বল থেকে শুরু করে দশম ওভারের শেষ বল, নাহিদ রানা টানা ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গততে বোলিং করে গেছেন। পুরো ১০ ওভারে ৫৯টি বৈধ ডেলিভারিই তিনি করেছেন ১৪০ কিমি গতির ওপরে, যা অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে কিউই ব্যাটারদের কাছে।

এদিন নিউজিল্যান্ডের সেরা ব্যাটার ছিলেন কেলি। ১৮৭ মিনিট উইকেটে টিকে থেকে ১০২ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। ম্যাচ শেষে নাহিদের গতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে কেলি বলেন, ‘আমি আজকে বেশ কিছুক্ষণ ব্যাটিং করেছি। এই গরমের মধ্যে দৌড়ে এসে এতো জোরে বোলিং আমি ভাবতেও পারি না। খুব, খুব গরম ছিল। আমি যেটা বললাম, সে একদম প্রথম বল থেকে অনেক জোরে বোলিং করেছে। তার আজকের শেষ বলটিও ছিল ১৪৫ কিমি. প্রতি ঘণ্টার।’

Advertisement

কেলির চোখে নাহিদ রানার এই লড়াকু মানসিকতা ছিল দারুণ ইতিবাচক, ‘এই রোদের মধ্যে সে ৪ ঘণ্টা বাইরে ছিল (ফিল্ডিংয়ে) এবং বল হাতে নিয়ে প্রথম ডেলিভারি থেকে শেষ পর্যন্ত এই গতিতে বোলিং করা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

অথচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে নাহিদ ছিলেন একেবারেই ছন্নছাড়া। ৬৫ রান খরচ করে পেয়েছিলেন মাত্র ১টি উইকেট। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ৩২ রান দিয়ে শিকার করলেন ৫ উইকেট। কেবল গতি নয়, উইকেটের বাউন্স আর সবুজাভ ঘাসকে কাজে লাগিয়ে কিউই টপ অর্ডারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে কেলি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচের তুলনায় মূল পার্থক্য ছিল, সে আজ স্টাম্পে বেশি বল করেছে ও সুইং পেয়েছে। বাউন্সের তারতম্য ছিল। যেটা প্রথম ম্যাচেও ছিল। তবে এই গতিটা ছিল না। আজকে কিছুটা সবুজাভ ঘাস ছিল উইকেটে। উইল ইয়াংয়ের উইকেটটাই যেমন, দারুণ গতিতে ব্যাটের কাঁধের অংশে লেগে যায়। অবশ্যই এই গরমে নিয়মিত ১৪৫ কিমি গতিতে বল করা দারুণ ব্যাপার।’

এসকেডি/এমএমআর

Advertisement