ভারতের তেল শোধনাগারগুলো ইরান থেকে কেনা সীমিত পরিমাণ তেলের মূল্য চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করছে। এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত চারটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমনকি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, রাশিয়ার কিছু তেল কেনার ক্ষেত্রেও চীনা মুদ্রা ইউয়ান ব্যবহার করেছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো।
Advertisement
সূত্রগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার আওতায় কেনা এই তেলের মূল্য মুম্বাইভিত্তিক আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ভবিষ্যতে আর ইরানি তেল কেনার পরিকল্পনা করছে না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
গত মাসে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টক বেসেন্ট বুধবার (১৫ এপ্রিল) জানিয়েছিলেন, এই ছাড় আর নবায়ন করা হবে না। ফলে ইরানি তেলের ওপর দেওয়া এই অব্যাহতি রোববার (১৯ এপ্রিল) শেষ হয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এসব তেলের মূল্য পরিশোধের জটিলতা অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে নিরুৎসাহিত করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
Advertisement
এই মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহত্তম তেল শোধনাগার ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন প্রথমবারের মতো সাত বছর পর ইরানি তেল কেনে। ‘জয়া’ নামের একটি বড় তেলবাহী জাহাজে করে ২০ লাখ ব্যারেল তেল কেনা হয়, যার মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিলাইয়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ ভিড়ার অনুমতি দিয়েছে ভারত। সেগুলোর মধ্যে ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামের একটি জাহাজ এরই মধ্যে তেল খালাস করেছে বলে শিপিং সূত্র জানিয়েছে।
এই দুই শোধনাগারই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করছে। ব্যাংকটির সাংহাই শাখার মাধ্যমে ইউয়ানে অর্থ পাঠানো হচ্ছে। জানা গেছে, বিক্রেতার হিসাবও ইউয়ানে। তবে বিক্রেতাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পাঠানো ইমেইলের জবাব দেয়নি আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, রিলাইয়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই তেলের মূল্য কীভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এর আগে কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
Advertisement
‘নোটিস অব রেডিনেস’ পদ্ধতিতে পরিশোধ
সূত্রগুলো জানায়, তেলবাহী জাহাজ ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশের পর সরবরাহকারীর ‘নোটিস অব রেডিনেস’ পাওয়ার ভিত্তিতে মোট মূল্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন। এই পদ্ধতিকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টদের একজন।
সাধারণত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলো তেল সরবরাহ বা খালাসের পর মূল্য পরিশোধ করে থাকে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি হলে ভারত দেশটির তেলের অন্যতম বড় ক্রেতায় পরিণত হয়।
২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপের কারণে ভারত ইরানি তেল কেনা থেকে বিরত ছিল। এরপর থেকে চীনের স্বাধীন ছোট শোধনাগারগুলো, যেগুলো ‘টিপট’ নামে পরিচিত, ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
সূত্র: রয়টার্স
এসএএইচ