দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সয়াবিন তেল, ডালডা, বাটার ও মার্জারিনে (মাখনের মতো খাবার) উদ্বেগজনক হারে ট্রান্সফ্যাটি এসিডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা হৃদ্রোগে মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে প্রায় চার শতাংশের মৃত্যুর কারণ।
Advertisement
সোমবার (২০ এপ্রিল) ‘মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক এক সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এ উদ্বেগের তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এবং মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটি বিএফএসএ’র প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তার প্রবন্ধে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত সয়াবিন তেল, ডালডা, বাটার ও মার্জারিনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানিয়ে বলা হয়, সয়াবিন তেলের ১১টি নমুনার মধ্যে সাতটিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি এসিড পাওয়া গেছে। এছাড়া, ডালডার ৯৫টি নমুনার ৯৩টিতে, বাটারের ৩০টি নমুনার ২৬টিতে ও মার্জারিনের ১৪টি নমুনার ছয়টিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।
এসময় বলা হয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে, যা ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সালে কার্যকর হয়। এই প্রবিধানমালায় ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিধান সব ধরনের প্রক্রিয়াজাত, প্যাকেটজাত ও প্রস্তুত খাবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এসব খাদ্যে সর্বোচ্চ মাত্রার পরিধি মানা হচ্ছে না।
Advertisement
যে কারণে দেশে প্রতিবছর দুই লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু শিল্পজাত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে ঘটে। ট্রান্সফ্যাট রক্তনালিতে জমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ জন হৃদ্রোগে মারা যায়। যার মধ্যে প্রায় চার শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গে ট্রান্সফ্যাট ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সেমিনারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা যদি সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে চাই, তাহলে সচেতনতার বিকল্প নেই। শিল্পজাত ওইসব খাদ্য ছাড়াও দেশে অহরহ ব্যবহার হওয়া পোড়া তেলে এ ট্রান্সফ্যাটের ভয়াবহ মাত্রা রয়েছে।’
সেমিনারে জানানো হয়, রান্নায় একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ যেমন- ট্রান্সফ্যাট, ফ্রি র্যাডিক্যাল সৃষ্টি হয়, যা মানবদেহে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, লিভারের সমস্যা ও অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের পোড়া তেল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিচার্স ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমেদ খায়রুল আবরার বলেন, পোড়া তেল ক্যানসারের সৃষ্টি করে। যারা পোড়া তেলে ভাজাপোড়া করেন তাদেরও ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো তেল দু-তিনবারের বেশি ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
Advertisement
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুয়েন্জারের দক্ষিণ এশিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার মার্টিন শেসট্যাগ, বিএফএসএ সদস্য আ ন ম নাজিম উদ্দীন ও ড. মোহাম্মদ মোস্তফা।
এনএইচ/একিউএফ