সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। জেলার চারটি উপজেলা—চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগরে মোট ২৯টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
Advertisement
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় মোট ১১ হাজার ৭৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ১৯টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে ৮ হাজার ৯৭২ জন। এছাড়া এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার জন্য ৫টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৪২ জন এবং দাখিল পরীক্ষার জন্য ৫টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ১৫২ জন পরীক্ষার্থী।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮৫২ জন, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮৯০ জন, সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৬৬ জন এবং সাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬৬৫ জন, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১ হাজার ২৩০ জন, মুন্সিগঞ্জ একাডেমিতে ৪৯৭ জন এবং হাটবোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন।
Advertisement
দামুড়হুদা উপজেলায় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৪৪ জন, পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ৪৪৩ জন, মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩১১ জন, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৩৪৪ জন, কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৭১ জন এবং কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
জীবননগর উপজেলায় থানা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৯৬ জন, থানা সরকারি পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে ১৮০ জন, আন্দুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৬০ জন, উথলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ২২৮ জন এবং মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন।
এছাড়া ভোকেশনাল শিক্ষার অধীনে চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৪৩৫ জন, সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫১ জন, আলমডাঙ্গা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯৭ জন, দামুড়হুদা পাইলট গার্লস হাই স্কুলে ২৯৩ জন এবং জীবননগর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
দাখিল পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদরাসায় ২৪৭ জন, আলমডাঙ্গা আলিম মাদরাসায় ২৮৫ জন, দামুড়হুদা ডিএস দাখিল মাদরাসায় ২০৩ জন, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ১৬৩ জন এবং জীবননগর ফাজিল মাদরাসায় ২৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
Advertisement
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সচিবদেরও সাধারণ (নন-অ্যান্ড্রয়েড) ফোন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করে কেন্দ্রে প্রবেশ করানো হবে।
পরীক্ষা চলাকালে জেলার সকল ফটোকপি মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
হুসাইন মালিক/এমআরএম