দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের রহস্য নিয়ে নানা মতামত থাকলেও বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের দৃষ্টিভঙ্গি বেশ সহজ ও সরল। তার মতে, জটিল নিয়ম নয়, একটি সাধারণ জীবনযাপনের অভ্যাসই শরীরকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। আর সেই অভ্যাসটি হলো খাদ্যাভ্যাসে সংযম।
Advertisement
রাজপাল যাদব বিশ্বাস করেন, কম খাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি। তার ভাষায়, ‘যতটা কম খাবেন, ততটাই শরীর ভালো থাকবে এবং জীবনও দীর্ঘ হবে।’ শুধু তাই নয়, তিনি সুস্থ জীবনের জন্য তিনটি মূল অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন খাবার কমানো, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো। তার সহজ সূত্র হলো-অর্ধেক খাবার, দ্বিগুণ পানি এবং তিন গুণ পরিশ্রম।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও রয়েছে। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে, হজমে চাপ পড়ে এবং ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হতে পারে। বিপরীতে, নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত আহার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা এবং পরিমিত আহার সব মিলিয়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘পোর্শন কন্ট্রোল’ বা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। এর মানে একেবারেই না খাওয়া নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা। এতে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করতে পারে এবং অতিরিক্ত চাপও পড়ে না।
Advertisement
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস উপকারী হতে পারে-
ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণ করা, যেন মস্তিষ্ক সময়মতো পেট ভরার সংকেত পায় খাওয়ার সময় ফোন বা টিভির মতো বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলা প্রথমেই কম পরিমাণ খাবার নেওয়া, প্রয়োজনে পরে আবার নেওয়া খাবারের আগে পানি পান করা, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি রাখা, যেন দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকেএছাড়া আধুনিক পুষ্টিবিদ্যায় ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা সচেতনভাবে খাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর অর্থ হলো শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, বরং কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মনোযোগ দিয়ে, ধীরে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খেলে হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং শরীর খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারে।
সর্বোপরি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য কোনো জটিল সূত্রের প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এই সহজ অভ্যাসগুলোই শরীর ও মনকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
জেএস/
Advertisement