এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিগত কয়েক বছর ধরে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। এবার তাতে ছন্দপতন ঘটেছে। এবার ছাত্রীদের চেয়ে বেশি সংখ্যক ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনটিই দেখা গেছে।
Advertisement
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন। আর ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। হিসাব অনুযায়ী- এবার ছাত্রীর চেয়ে ছাত্রের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬৬ জন বেশি।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫০৮ জন বেশি ছিল। ওই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন।
সাধারণ ৯ বোর্ডে এসএসসিতে ছাত্রীরা এগিয়েদেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হিসাব করলে সেক্ষেত্রে আবার ছাত্রীরা এগিয়ে। ঢাকাসহ ৬টি বোর্ডে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা বেশি অংশ নিচ্ছে। আর রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে ছাত্রদের অংশগ্রহণের হার বেশি।
Advertisement
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯টি বোর্ড মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন। আর ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন। সেই হিসাবে ৯টি সাধারণ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৮৮ জন বেশি।
বোর্ডওয়ারি হিসাবে ঢাকা বোর্ডে ছাত্র ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৯ জন, ছাত্রী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭১১ জন। কুমিল্লা বোর্ডে ছাত্র ৫৮ হাজার ৮৪৭ এবং ছাত্রী ৮৭ হাজার ৯৭০ জন; যশোর বোর্ডে ছাত্র ৬৬ হাজার ৯২৮ জন এবং ছাত্রী ৬৮ হাজার ১৬১ জন; চট্টগ্রামে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন; বরিশালে ছাত্র ৩৭ হাজার ৯৪৪ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৮৮৭ জন; সিলেটে ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন।
আরও পড়ুনকঠোর নিরাপত্তায় শুরু এসএসসি পরীক্ষা‘আকস্মিক’ এসএসসির কেন্দ্র পরিদর্শনে যাবেন শিক্ষামন্ত্রী
বাকি তিনটি বোর্ডে ছাত্র বেশি। সেগুলো হলো- রাজশাহীতে ছাত্র ৯৩ হাজার ১৭৪ জন এবং ছাত্রী ৮৪ হাজার ৫৩৫ জন; দিনাজপুরে ছাত্র ৯২ হাজার ৬৯২ জন এবং ছাত্রী ৮৯ হাজার ১৬২ জন। এছাড়া ময়মনসিংহে ছাত্র ৫৫ হাজার ৯২৬ জন এবং ছাত্রী ৫২ হাজার ৪৩৩ জন।
Advertisement
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ছাত্রী বেশি। এটা বহু বছর ধরেই বেশি। আমরা চাই, ছাত্র ও ছাত্রীদের সমান অংশগ্রহণ থাকুক। কেউ এগিয়ে যাবে, কেউ পিছিয়ে পড়বে; সেটা চাই না। তবে সাধারণ ধারার শিক্ষায় ছাত্রীরা এখন এগিয়ে এটা বলতে দ্বিধা নেই।
কারিগরিতে ছাত্রীর চেয়ে ছাত্র তিনগুণ বেশিকারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বরাবরের মতো এবারও ছাত্র বেশি। তবে এবার ছাত্রীদের চেয়েও তিনগুণ বেশি ছাত্র এ বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীর অনুপাতে বড় প্রভাব ফেলেছে। কারিগরি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৫০৯ জনই ছাত্র। আর মাত্র ৩৩ হাজার ১৫১ জন ছাত্রী।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ছাত্রীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে। সামাজিক অসচেতনতা ও নানান প্রতিবন্ধকতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করি সামনের দিনে সরকারের উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।’
দাখিলেও ছাত্র বেশি, ছাত্রী কমমাদরাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায়ও এবার ছাত্র বেশি। এ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪৯১ জন ছাত্র এবং ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৫ জন ছাত্রী।
মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক বলেন, ধীরে ধীরে মাদরাসায় ছাত্রীর হার বাড়ছে। আগে এর চেয়েও কম ছিল। এখন ছাত্রীদের মাদরাসায় আসার হার যেভাবে বাড়ছে, তাতে আগামী তিন-চার বছরে ছাত্র ও ছাত্রী প্রায় সমান হয়ে যাবে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী প্রধান অধ্যাপক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষায় নারী কম, কারিগরিতে নারী কম; সে কারণে গ্র্যান্ড টোটাল হিসাবে ছাত্রীদের সংখ্যা কিছুটা কম। এতে নেতিবাচক কিছু নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত সবাই শিক্ষার আওতায় আসছে কি না এবং মেয়ে হওয়ায় কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না। আবার পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে কোনো ছেলেও লেখাপড়া থেকে ছিটকে যাচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে।’
এএএইচ/ইএ