রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মোসা. শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে তিনি তার সঙ্গে থাকা ১ মাস ১৬ দিন বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।তিনি দাবি করেন, তাকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে এক মাস ১৬ দিন বয়সী শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুটিকে নিয়ে কারাগারে থাকলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
Advertisement
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
এ সময় আদালতে উপস্থিত আসামির খালা উম্মে কুলসুম সুমি দাবি করেন, তার ভাগনির শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তার হাত ভাঙা—এ অবস্থায় কারাগারে থাকা তার জন্য কষ্টকর।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাদীর ছেলে মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১), যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হামলা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
Advertisement
অভিযোগে বলা হয়, একই বছরের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামির নির্দেশে বিপুলসংখ্যক লোকজন দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় বাদীর স্বামী মো. সোহেল রানা গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এমডিএএ/এমএএইচ/
Advertisement