অর্থনীতি

ব্যবসায়ীরা ধরেই নিয়েছেন হক-হালালি ব্যবসা করা যাবে না

শুল্ক সুবিধা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী এর অপব্যবহার করেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

Advertisement

বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কর সুবিধা নিয়ে পণ্য আনা হলেও তা বাসা-বাড়িতে ব্যবহার হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ধরেই নিয়েছেন যে হক হালালি ব্যবসা করা যাবে না। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।  

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) পক্ষে এ এইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির প্রোপাইটর হারেস মোহাম্মদ বলেন, হাউজ হোল্ড সুইচ, সকেট আমদানি হয়, তা এনে অন্যান্য কিছু সুইচ নামে পণ্য আছে যেমন লিমিট সুইচ, সিলেক্টর যেগুলো আসলে বাসায় ব্যবহার হয় না, শিল্পে ব্যবহার হয়। বাসা বাড়ির সুইচের জন্য ২০ শতাংশ এসডি আছে। যে পণ্য আমদানির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, যেটা শিল্পে ব্যবহার হয় সেটার ক্ষেত্রে যদি একই হেডে, একই এইচএস কোডে শুল্কায়ন করা হয় তাহলে তা যৌক্তিক না।  

Advertisement

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এইচএস কোড যত বেশি বিভাজন করবেন এবং একাধিক হার করলে তার অপব্যবহার বেশি হয়। বরং হার যত একরকম থাকে এটার অপব্যবহার কম হয়। দেখা যাবে তখন আপনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করছেন, যা বাসাবাড়িতে ব্যবহার হবে। কিন্তু আপনি এগুলো সব বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বলে কম শুল্কে মাল নিয়ে আসছেন। এটা ঠেকাবে কে? মুশকিল। আমি তো দেখেছি এই দেড় বছরে। মানে আমাদের এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এইটা। ব্যবসায়ীরা ধরেই নিয়েছেন যে হক হালালি ব্যবসা করা যাবে না। এই জায়গা থেকে বাইরে আসতে হবে। আমরা ডিউটি সবই রেশনালাইজ করবো, কিন্তু আপনাদেরও এই জিনিসটা করতে হবে।

এসময় হারেস মোহাম্মদ বলেন, আপনার কথাটা খুবই সত্য। যারা আসলে ভালো ব্যবসায়ী তারা এখন নাই হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় আছেন। এর মূল বিষয়টা হচ্ছে মিস ডিক্লারেশন। ৫ বছর আগে ২০০ থেকে ৪০০ পার্সেন্ট মিস ডিক্লারেশনের ফাইন হলো, সেটা কি এখন টোটালি ওই ধরনের ইমপ্লিমেন্টেশন আছে? আমি বলবো নাই। এর জন্য শুধু আমদানিকারকরাই দায়ী নয়, এর জন্য কি অন্য একটা পোরশন (বড় অংশ) দায়ী আছে না? এটা কেন বন্ধ হয় না? ইটস ওপেন সিক্রেট ব্যাপার।  

আরও পড়ুনসৌদি থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে বাংলাদেশের পথে ‘এমটি নিনেমিয়া’ সৌর বিদ্যুৎ খাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর 

তিনি আরও বলেন, আপনি যদি মিস ডিক্লারেশন প্রতিরোধ করতে পারেন, আপনার রেভিনিউ আমি মনে করি ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে আমদানি পর্যায়ে।

Advertisement

প্রাক বাজেট আলোচনায় বৈদ্যুতিক সুইচ, সকেট, হোল্ডার, প্লাগসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির কাঁচামালের নিয়ন্ত্রণ মূলক শুল্ক বা (আরডি) প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইলেতট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিমা)। এছাড়া বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারসের (বিএমএটিএস) প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কাঁচামালের ওপর শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব।

সৌর বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কার ও কর অবকাশের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্রে ভ্যাট অব্যাহতি চেয়েছে বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা)।

এছাড়া ফিনিশড এক্যুলেটর ব্যাটারির ভ্যাট ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা ও অন্যান্য কাঁচামালের রাজস্ব ছাড় চেয়েছে এক্যুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ((এবএমইএবি)। অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কর অবকাশ চেয়েছে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ)।

প্রাক বাজেট আলোচনায় ২০১২ সালের মূসক ও শুল্ক আইনের ২৬ ধারার আলোকে অব্যাহতির তালিকায় হাতে তৈরি বিস্কুট ও কেক অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।  

এসএম/কেএসআর