বাড়ির সবচেয়ে বেশি জীবাণু যে জায়গাগুলোতে থাকে, তার মধ্যে রান্নাঘর ও বাথরুম অন্যতম। অনেকেই রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখলেও বাথরুমের ক্ষেত্রে একটু অবহেলা করেন। আবার কেউ কেউ নিয়মিত পরিষ্কার করলেও মনে করেন, দরজা বন্ধ রাখলেই বাথরুম নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাথরুমের দরজা সারাক্ষণ বন্ধ রাখা বরং উল্টো সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ, আর্দ্রতা ও বাতাস চলাচলের অভাবে এই জায়গাটি জীবাণুর জন্য আরও উপযোগী পরিবেশে পরিণত হয়।
Advertisement
বাথরুম এমন একটি জায়গা, যেখানে সবসময় পানি ব্যবহার হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এই আর্দ্র পরিবেশ ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ভাইরাসের জন্য খুবই ভালো জায়গা। যদি বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করে, তাহলে এই জীবাণুগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে।
দরজা বন্ধ রাখলে যে সমস্যা হয়অনেকের ধারণা, বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখলে দুর্গন্ধ বা জীবাণু বাইরে ছড়াতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি ভুল ধারণা। বরং দরজা বন্ধ রাখলে ভেতরে জমে থাকা আর্দ্রতা ও জীবাণু আরও বেশি বৃদ্ধি পায়।
বিশেষ করে টয়লেট ফ্লাশ করার সময় বাতাসে অতি সূক্ষ্ম জলকণা ছড়িয়ে পড়ে, যাকে ‘ টয়েলেট প্লাম টয়লেট প্লুম’ বলা হয়। এই কণাগুলোর সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসও থাকতে পারে। দরজা বন্ধ থাকলে এই কণাগুলো বাইরে বের হতে পারে না, বরং বাথরুমের ভেতরেই দরজার হাতল, বেসিন, কলসহ বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকে।ফলে ধীরে ধীরে পুরো বাথরুম দূষিত হয়ে ওঠে এবং জীবাণু বাড়তে থাকে।
Advertisement
আর্দ্রতা শুধু জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়ায় না, বরং ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জন্মানোরও অন্যতম কারণ। দেয়াল, টাইলস বা কোণায় কালো দাগ বা ছোপ দেখা গেলে বুঝতে হবে সেখানে ছত্রাক তৈরি হয়েছে। এটি শুধু বাথরুমের সৌন্দর্য নষ্ট করে না, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
যেভাবে বাথরুম জীবাণুমুক্ত রাখবেনবাথরুম পরিষ্কার রাখা শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, এটি স্বাস্থ্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই এই জায়গাকে অনেক বেশি নিরাপদ রাখা সম্ভব। প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর কিছু সময় দরজা খোলা রাখুন। এতে ভেতরের আর্দ্রতা বের হয়ে যাবে এবং বাতাস চলাচল বাড়বে। দুর্গন্ধও কমে যাবে।
বাথরুমে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা খুব জরুরি। জানালা থাকলে তা খোলা রাখুন, আর সম্ভব হলে একটি এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। এতে ভেতরের ভেজা বাতাস দ্রুত বাইরে বের হয়ে যায়। টয়লেট ফ্লাশ করার সময় সবসময় সিট ঢেকে রাখার অভ্যাস করুন।
এতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। নিয়মিত বাথরুম পরিষ্কার করতে হবে। শুধু মেঝে নয়, দরজার হাতল, কল, বেসিনসহ সব জায়গাও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমে থাকে।
Advertisement
বাথরুম যতটা সম্ভব শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। ব্যবহার শেষে অতিরিক্ত পানি মুছে ফেললে আর্দ্রতা কমে যায়।একটি বাটিতে সামান্য লবণ নিয়ে বাথরুমের এক কোণে রেখে দিলে প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা শোষণ করে, ফলে বাথরুম কিছুটা শুকনো থাকে।
সচেতনতা জরুরিআমরা অনেক সময় ছোট ছোট বিষয়কে গুরুত্ব দিই না, কিন্তু সেগুলোই দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখা তেমনই একটি অভ্যাস, যা অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই শুধু পরিষ্কার করাই নয়, সঠিকভাবে বাথরুম ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করাও জরুরি। একটু সচেতন হলেই এই জায়গাটিকে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর এবং জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, গুড হাউজকিপিং
এসএকেওয়াই