এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা চলাকালে চট্টগ্রামের সব পরীক্ষা কেন্দ্র ও হাসপাতাল এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, প্রয়োজনে অন্য এলাকা থেকে সমন্বয় করে হলেও গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে।
Advertisement
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নগরের খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভাতেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন যেন না ঘটে, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে। কারণ পরীক্ষার সময় সামান্য সমস্যাও শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
Advertisement
পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি নকল বা অন্য কোনো অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সারা জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে রয়েছেন। নির্ধারিত সেট কোড অনুযায়ী ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত পরীক্ষার পরিবেশ সন্তোষজনক।
পরিদর্শনের সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। অনেকেই তাকে জানিয়েছেন, এবার প্রশ্নপত্র তুলনামূলক সহনীয় হয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরে স্বস্তি বোধ করছে।
জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই একেকটি পরীক্ষা। তবে ছাত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো এসএসসি। এটি ভবিষ্যৎ গঠনের প্রথম বড় পদক্ষেপ।
Advertisement
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ১৭৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরে জেলা প্রশাসক নগরের আরও দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআরএএইচ/এমআরএম