দেশজুড়ে

চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি: হাওরে বন্যার শঙ্কায় ধান কাটার পরামর্শ পাউবোর

নেত্রকোনার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টিপাতের পানি পাহাড়ি ঢলের মাধ্যমে জেলার নদ-নদীগুলোতে নামছে। তাই অকাল বন্যার শঙ্কায় হাওড়ে জমির পাকা ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

Advertisement

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাওরের জমিতে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে সেগুলো জমিতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। আগেও নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই হাওরের নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টির পানি এখনো জমে আছে। এখন উজানের ঢল নামলে পানি আরও বাড়বে। তাই দ্রুত পাকা ধান কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাউবো জানায়, এবার নেত্রকোনায় চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উজানে বৃষ্টি হলে নেত্রকোনায় পাহাড়ি ঢল নামে। এতে সোমেশ্বরী, কংস, ধনু, উব্দাখালীসহ অন্যান্য নদ-নদীতে পানি বাড়ে। ফলে যেকোনো সময় হাওর এলাকায় দেখা দিতে পারে অকাল বন্যা, ক্ষতি হতে পারে ফসলের।

গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিতে নেত্রকোনার কংস, উব্দাখালি, ধনুসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আজ বুধবার দুপুর একটা পর্যন্ত খালিয়াজুরির ধনু নদে প্রায় ২ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে উঠতি বোরো ফসল নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় কৃষকরা। নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

Advertisement

খালিয়াজুরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। এই সপ্তাহে পুরোদমে ফসল কাটা শুরু হয়েছে। আমরা চাষিদের আগাম জাতের ধান লাগানোর পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু অনেকেই অধিক ফলনের আশায় আগাম জাতের ধান কম লাগান।

খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ধনু নদে পানি কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টির পানি নিচু স্থানে কিছু খেতে জমেছে। হাওড়ের পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এইচ এম কামাল/এফএ/এএসএম

Advertisement