জাতীয়

দালানকোঠার ভিড়ে কৃষ্ণচূড়ার লাল আভায় স্বস্তির ছোঁয়া

‘কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন জ্বেলে দিয়ে আমার বুকে আছো তুমি মহাসুখে...।’ নব্বইয়ের দশকে শিল্পী হাসান চৌধুরীর দরাজ কণ্ঠে এ গানের সুর যখন বাজতো তখন তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে এক অন্যরকম দোলা লাগতো। সময় বদলেছে ,ক্যাসেট প্লেয়ারের জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল মিউজিক অ্যাপ। তবে কৃষ্ণচূড়ার সেই ‘লাল আগুন’ আজও ফিকে হয়নি।

Advertisement

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর গুলশান-হাতিরঝিল লেকসংলগ্ন এলাকায় একটি কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল আভা ছড়িয়ে ফুটে থাকা ফুল যেন হঠাৎই ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো দিনের স্মৃতিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লেকের পাড় ঘেঁষে একাধিক কৃষ্ণচূড়া গাছ পূর্ণ যৌবনে দাঁড়িয়ে আছে। ইট-পাথরের ধূসর দালানকোঠার ভিড়ে এই লাল রঙ যেন এক পশলা স্বস্তি। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে লেকের স্বচ্ছ নীল পানির ওপর যখন কৃষ্ণচূড়ার প্রতিফলন পড়ে, তখন মনে হয়—কোনো শিল্পী নিপুণ হাতে জলরঙে এঁকেছেন এক জীবন্ত ছবি।

ছবি: জাগো নিউজ

Advertisement

একসময় ঢাকার রাস্তাঘাটে বহুসংখ্যক কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখা যেত। তবে গত কয়েক দশকের নগরায়ণের চাপে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে।

লেকপাড়ের এ মনোরম পরিবেশ এখন পথচারী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত নগরবাসীর জন্য একটুখানি থেমে যাওয়ার জায়গা। কেউ স্মার্টফোনে বন্দি করছেন এই রক্তিম সৌন্দর্য, আবার কেউ মনে মনে গুনগুন করছেন সেই পুরোনো সুর—যেন ছবির মতো সাজানো এক টুকরো ঢাকা।

হাসান চৌধুরীর গানের ‘লাল আগুন’ হয়তো বিরহের কথা বলে, কিন্তু গুলশান লেকপাড়ের এই কৃষ্ণচূড়া আজ নগরবাসীর মনে আনন্দের প্রদীপ জ্বালাচ্ছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা এবং শহরের প্রতিটি কোণ এমন রঙিন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

এমইউ/এমএমকে

Advertisement